মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ জেলাজুড়ে মাদক ও অপরাধ দমনে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের বিশেষ অভিযানে বড় ধরনের সাফল্য অর্জিত হয়েছে। জেলার অন্যতম বৃহৎ মাদকের রুট ও সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে তিন কুখ্যাত ও চিহ্নিত মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। আজ ১৯ জুন শুক্রবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ব্যস্ততম ডাকবাংলা বাজার এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় গ্রেপ্তারকৃত মাদক চক্রের সদস্যদের দেহ ও হেফাজত তল্লাশি করে মোট ৩০০ (তিনশত) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম এই সফল অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিরা হলেন—ঝিনাইদহ সদর উপজেলার বাদপুকুরিয়া গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেম হোসেনের ছেলে মো: আব্দুল মালেক (৪৫), একই গ্রামের মৃত আবুল হাশেমের ছেলে মো: আইয়ুব হোসেন (৪৫) এবং শহরের মাগুরাপাড়া এলাকার আব্দুর রহমান কামালের ছেলে তানভীর আহমেদ ওরফে রুপম (৩৪)। স্থানীয়দের অভিযোগ ও ডিবির গোপন অনুসন্ধানে জানা যায়, এই তিন কারবারি দীর্ঘদিন ধরে পুরো জেলাজুড়ে এক শক্তিশালী ও ধরাছোঁয়ার বাইরের মাদক সিন্ডিকেট সুকৌশলে নিয়ন্ত্রণ করে আসছিলেন।
এ বিষয়ে মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা এবং ঝিনাইদহ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মুরাদ গণমাধ্যমকে জানান, “গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা প্রত্যেকেই পুলিশের তালিকাভুক্ত ও এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ জেলা শহরে নিয়মিত মাদকের বড় বড় চালান সরবরাহ করে আসছিল। আজ দুপুরে আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট ও গোপন সংবাদ আসে যে, ডাকবাংলা বাজার এলাকায় এই চক্রটি ইয়াবার একটি বড় চালান হাতবদল করার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির একটি চৌকস দল ওই এলাকায় চারপাশ থেকে ব্যারিকেড দিয়ে আকস্মিক অভিযান চালায় এবং আসামিদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধ ৩০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য লক্ষাধিক টাকা।”
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মুরাদ আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিন পেশাদার মাদক কারবারির বিরুদ্ধে আজ বিকেলেই ঝিনাইদহ সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই শক্তিশালী মাদক সরবরাহ চক্রের নেপথ্যে আর কোন কোন প্রভাবশালী গডফাদার বা পৃষ্ঠপোষক জড়িত রয়েছে এবং এই নিষিদ্ধ ইয়াবার মূল উৎস কী—তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উদঘাটন করতে ডিবি পুলিশের গভীর তদন্ত এবং সহযোগী আসামিদের গ্রেফতারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে ডিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ছবি সংগৃহীত।

