যশোরে প্রতীকী হজ শিক্ষার অনন্য নজির: খুদে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে আরকান-আহকাম শেখাল ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল

যশোরে প্রতীকী হজ শিক্ষার অনন্য নজির: খুদে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে আরকান-আহকাম শেখাল ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

শিক্ষার্থীদের মাঝে হজের ফরজ, ওয়াজিব ও বিভিন্ন আরকান-আহকামের বাস্তবধর্মী শিক্ষা দিতে ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল এন্ড কলেজ-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রতীকী হজ শিক্ষা প্রদর্শনী অনুষ্ঠান। রবিবার (২৪ মে) সকালে আরবপুর দিঘীরপাড়  প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে এ ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদেরকে একজন হজযাত্রীর ইমিগ্রেশন কার্যক্রম সম্পন্ন করা থেকে শুরু করে বিমানযোগে সৌদি আরব গমন, ইহরাম বাঁধা, তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সায়ী, আরাফাতের ময়দানে অবস্থান, মিনা, মুজদালিফা ও জামারায় পাথর নিক্ষেপসহ হজের গুরুত্বপূর্ণ সকল ধাপ প্র্যাকটিক্যাল উপস্থাপনার মাধ্যমে শেখানো হয়। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ  মোঃ শারাফাত হোসেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাবিবুর রহমান বলেন, বর্তমান যুগে আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারন্যাশনাল পিস স্কুল এন্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং বাস্তবমুখী ধর্মীয় শিক্ষা প্রদানেও যে আন্তরিকতা দেখিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। প্রতীকী হজ শিক্ষা কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের ইসলামের মৌলিক বিধান সম্পর্কে বাস্তব ধারণা অর্জনে সহায়ক হবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিনিয়র সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মাহিদুল ইসলাম এবং সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সোহরাব হোসেন। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আবু ফয়সাল, পরিচালক (নির্বাহী সচিব) গাউছুল আজম, পরিচালক (এডমিন) মোস্তফা কামাল, পরিচালক (অর্থ) রেজোয়ান হোসেন, আজিজুর রহমান মশিউর, মো. হাসানুজ্জামানসহ শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।

বিশেষ অতিথি মোঃ মাহিদুল ইসলাম বলেন, শিশুদের কোমল মনে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বইয়ের পাতার বাইরেও শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়ার যে উদ্যোগ প্রতিষ্ঠানটি নিয়েছে, তা অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও অনুকরণীয় হতে পারে।

অপর বিশেষ অতিথি মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সামনে হজের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম বাস্তবভাবে উপস্থাপন করায় তারা সহজেই বিষয়গুলো অনুধাবন করতে পারছে। এটি নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অভিভাবক লুইস বলেন,আমরা সাধারণত সন্তানদের বইভিত্তিক শিক্ষা নিয়েই বেশি ভাবি। কিন্তু এই আয়োজন দেখে বুঝলাম, বাস্তবধর্মী শিক্ষা শিশুদের জন্য কতটা কার্যকর হতে পারে। এমন উদ্যোগের জন্য প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।

অভিভাবক রুনা লায়লা বলেন, হজের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি ইবাদত সম্পর্কে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই বাস্তব ধারণা দেওয়া অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এতে তারা ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠবে।

অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অভিভাবক ও অতিথিরা শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও প্রতিষ্ঠানের ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।এবং বিজয়ীছাত্র-ছাত্রীদের  পুরস্কার বিতরণ করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *