মূল খুনিদের আড়াল করার অভিযোগ!

মূল খুনিদের আড়াল করার অভিযোগ!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের চৌগাছা উপজেলার লস্করপুর গ্রামে আতিয়ার রহমান নামে এক নৈশপ্রহরীকে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় মূল অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা এবং এজাহারভুক্ত আসামিদের প্রকাশ্য হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই গুরুতর অভিযোগ তুলে ধরেন নিহতের আপন ভাই ও মামলার বাদী রাশেদ আলী। সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং মামলাটি নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ  অথবা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-এর কাছে হস্তান্তরের আকুল আবেদন জানিয়েছে নিহতের পরিবার।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে নিহতের ভাই রাশেদ আলী জানান, তাঁর ভাই আতিয়ার রহমান উপজেলার রড গোবিন্দপুর বাজারের নৈশপ্রহরী বা পাহারাদার হিসেবে অত্যন্ত সততার সাথে কাজ করতেন। গত ২০ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি যথারীতি ডিউটি করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বাজারের দিকে বের হন। কিন্তু পরদিন ২১ জুন রবিবার সকাল পেরিয়ে গেলেও তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে চৌগাছা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।

পরবর্তীতে থানা পুলিশ নিখোঁজ আতিয়ারের মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ওসমান নামে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করে। ওসমানের দেওয়া জবানবন্দি ও তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ২১ জুন দুপুরের দিকে বেড়গোবিন্দপুর গ্রামস্থ বেড়গোবিন্দপুর বাওড়ের ডাইনের বিলে ক্যানালের মধ্যে কচুরিপানার নিচে পানিতে ভাসমান আতিয়ার রহমানের বীভৎস গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবারের সরাসরি অভিযোগ, ওসমানের স্বীকারোক্তি এবং চাঞ্চল্যকর তথ্যের ওপর ভিত্তি করে পুলিশ পরবর্তীতে সুজা ও কবির নামে আরও দুই আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। কিন্তু লাশ উদ্ধারের পর পর্দার অন্তরালে এক অদৃশ্য প্রভাবশালী মহলের ইশারায় তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে ঘটনার মূল সন্দেহভাজন ও মাস্টারমাইন্ডদের মামলার ডকেট থেকে আড়াল করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। রাশেদ আলী দাবি করেন, মামলার আনুষ্ঠানিক কাগজ তৈরির সময় পুলিশ রহস্যজনকভাবে মূল তথ্যদাতা ও আটককৃত ওসমানের নাম সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে শুধু সুজা ও কবিরের নাম অন্তর্ভুক্ত করে আদালতে পাঠায়, যা মামলার মেরিট নষ্ট করার শামিল।

রাশেদ আলী আরও জানান, পরবর্তীতে তিনি নিজেই বাদী হয়ে সুনির্দিষ্ট ৯ জনের নাম উল্লেখ করে চৌগাছা থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ৫ দিন পার হয়ে গেলেও এজাহারভুক্ত ৯ আসামির মধ্যে পুলিশ মাত্র তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। বাকি ৬ জন অত্যন্ত ভয়ংকর ও প্রভাবশালী আসামি এখনো প্রকাশ্য দিবালোকে বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। শুধু তাই নয়, খুনিরা মামলা তুলে নিতে এবং আপস-মীমাংসা করতে নিহতের পরিবারকে অনবরত মোবাইল ফোনে ও লোক মারফত অবরুদ্ধ করে প্রাণনাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। খুনিদের এমন বেপরোয়া আচরণে বর্তমানে আতিয়ারের পুরো পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতা ও মৃত্যুর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

সাংবাদিকদের মাধ্যমে আইজিপি, ডিআইজি এবং যশোরের পুলিশ সুপারের কাছে পরিবারের একটাই আকুল আবেদন— চৌগাছা থানার বর্তমান তদন্তের ওপর তাদের আস্থা কমে যাওয়ায়, হত্যাকাণ্ডের আসল নেপথ্যের কারণ ও মোটিভ উদ্ঘাটনে মামলাটি অনতিবিলম্বে ডিবি অথবা পিবিআই-এর কাছে স্থানান্তর করা হোক। একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, প্রভাবমুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে নৈশপ্রহরী আতিয়ার রহমান হত্যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত গডফাদারদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *