যশোরে ব্যাংক কর্মকর্তার চোখে-মুখে স্প্রে করে ১২ লাখ টাকা লুট!

যশোরে ব্যাংক কর্মকর্তার চোখে-মুখে স্প্রে করে ১২ লাখ টাকা লুট!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর শহরের ব্যস্ততম চাঁচড়া এলাকায় জনৈক ব্যাংক কর্মকর্তার চোখে-মুখে ক্ষতিকর চেতনানাশক স্প্রে করে অভিনব কায়দায় ১২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চাঞ্চল্যকর মামলার মূল হোতাকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) মধ্যরাতে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিশেষ গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে রাজধানী ঢাকার কামরাঙ্গীরচর এলাকায় এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এনামুল শেখ (৩৫) নামে এই ধুরন্ধর প্রতারককে আটক করা হয়। আটককৃত এনামুল শেখ এই সংঘবদ্ধ স্প্রে-পার্টি ও অজ্ঞান পার্টির একজন অত্যন্ত সক্রিয় সদস্য।

যশোর ডিবি পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া শাখার অত্যন্ত ম্যানেজার মো. খলিলুর রহমান দাপ্তরিক ও গ্রাহকদের সেবার উদ্দেশ্যে ব্যাংক থেকে নগদ ১২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। টাকাগুলো একটি ব্যাগে রেখে তিনি যশোর শহরের চাঁচড়া মোড় এলাকা হয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা স্প্রে-পার্টির সদস্য এনামুল শেখ ও তার সহযোগীরা ব্যাংক ম্যানেজার খলিলুর রহমানকে সুকৌশলে ঘিরে ধরে এবং নানামুখী কথাবার্তা বলে মনোযোগ বিঘ্নিত করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে প্রতারকেরা চোখের পলকে খলিলুর রহমানের মুখে অত্যন্ত তীব্র চেতনানাশক রাসায়নিক স্প্রে বা অজ্ঞান করার ওষুধ স্প্রে করে দেয়। ব্যাংক কর্মকর্তা মুহূর্তের মধ্যে অচেতন ও সংজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে প্রতারক চক্রটি তার হাতে থাকা ১২ লাখ টাকা ভর্তি ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে চোখের পলকে হাওয়া হয়ে যায়।

এই ঘটনায় পরবর্তীতে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে। ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম চাঁচড়া এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং তথ্য-প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ডিবির বিশেষ স্কোয়াড ঢাকায় হানা দিয়ে কামরাঙ্গীরচরের এক গোপন আস্তানা থেকে এনামুল শেখকে গ্রেফতার করে সরাসরি যশোরে নিয়ে আসে।

যশোর ডিবি পুলিশ নিশ্চিত করেছে, গতকাল বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে কড়া পুলিশি পাহারায় গ্রেফতারকৃত আসামি এনামুল শেখকে যশোরের বিজ্ঞ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই এনামুল নিজের অপরাধের কথা অকপটে স্বীকার করে এবং ১৯ জানুয়ারি কৃষি ব্যাংক কর্মকর্তার ১২ লাখ টাকা স্প্রে করে লুটের পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়ে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। বিজ্ঞ বিচারক তার জবানবন্দি রেকর্ড শেষে জামিন নামঞ্জুর করে সোজা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *