স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার দীর্ঘ চার দিন পর এক জাতীয়তাবাদী যুবদলকর্মীর ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। নিহত যুবদলকর্মীর নাম মিন্টু খান। গতকাল বুধবার (৩ জুন, ২০২৬) মধ্যরাতের দিকে উপজেলার কাউনটার বিল নামক স্থান থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট সন্দেহে পুলিশ ইতিমধ্যেই পাঁচজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। নিহত মিন্টু খান ঘাটাইল উপজেলার আমুয়াবাইদ গ্রামের মজিদ মাস্টারের ছেলে এবং তিনি স্থানীয় রাজনীতির মাঠে যুবদলের একজন সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ চার দিন নিখোঁজ থাকার পর তাঁর এই নির্মম মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, গত রবিবার (৩১ মে) সকালে মিন্টু খান ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নিজ বাড়ি থেকে বের হন। এরপর দিন গড়িয়ে রাত হলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। তাঁর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং আত্মীয়-স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো সন্ধান মেলাতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে মিন্টুর সন্ধান চেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে ঘাটাইল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই ঘাটাইল থানা পুলিশ তদন্তে নামে এবং মিন্টুর নিখোঁজ হওয়ার পেছনে পূর্ব শত্রুতার বিষয়টিকে সামনে রেখে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়।
ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদ মাধ্যমকে জানান, নিখোঁজের ঘটনাটি গভীরভাবে তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচজনকে আটক করে হেফাজতে নেয়। পরবর্তীতে থানায় এনে তাদের দীর্ঘ ও নিবিড় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, আটকদের দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার গভীর রাতে কাউনটার বিলে অভিযান চালানো হয় এবং বিলের পানি থেকে মিন্টু খানের মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত মরদেহের মাথায় ধারালো বা ভারী কোনো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের স্পষ্ট ও গভীর চিহ্ন রয়েছে, যা থেকে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তাঁকে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে লাশ বিলে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। আজ বৃহস্পতিবার সকালে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য কারণ উদঘাটন এবং জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের ব্যাপক তদন্ত চলমান রয়েছে এবং এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া দ্রুততার সাথে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। ছবি সংগৃহীত।

