ব্যবস্থাপনার ত্রুটি আন্তরিকতা ও দক্ষতা দিয়ে দূর করতে হবে – প্রতিমন্ত্রী অমিত

ব্যবস্থাপনার ত্রুটি আন্তরিকতা ও দক্ষতা দিয়ে দূর করতে হবে – প্রতিমন্ত্রী অমিত

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দেশের জ্বালানি খাতের সবকিছু রাতারাতি আমূল পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে মাঠপর্যায়ে সেবাদানের ক্ষেত্রে ও ব্যবস্থাপনায় যে ধরনের ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, তা কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে দ্রুত নিরসন করা সম্ভব।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) সঙ্গে বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যক্রম পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ জুম সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী মাঠপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, এটি একটি জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার, তাই প্রতি পদে পদে আমাদের আমজনতার কাছে জবাবদিহি করতে হয় এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এই জবাবদিহিতার বাইরে নন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সাধারণ মানুষ সর্বক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশা করছে এবং বর্তমান সরকার জনগণের সেই সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। তাই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পরিহার করে জনগণের প্রতি প্রকৃত দায়বদ্ধতা অনুভব করার এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্রুততার সাথে কাজ করার জন্য প্রশাসনের সকল স্তরের কর্মকর্তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

উক্ত অনলাইন জুম সভায় বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার ও রুফটপ সোলার সিস্টেমের ব্যাপক গুরুত্ব ও সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, পরিকল্পিতভাবে সৌরবিদ্যুতের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক বিদ্যুতের চাহিদার প্রায় ৫০ শতাংশই পূরণ করা সম্ভব। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তিনি দেশের সকল জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং সরকারি হাসপাতালের ছাদে বাধ্যতামূলকভাবে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় প্রথম পর্যায় হিসেবে দেশের প্রতিটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রুফটপে (ছাদে) দ্রুততম সময়ের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের প্রয়োজনীয় ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সকল জেলা প্রশাসককে সরাসরি কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত বিদ্যুৎ সাশ্রয় বিষয়ক ব্যবস্থাপনা কমিটির এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভাটি শেষ হওয়ার পরপরই প্রতিমন্ত্রী রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পৃথক এক বিশেষ বৈঠকে অংশ নেন। সেই বৈঠকে তৃণমূল পর্যায়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, লোডশেডিংয়ের তীব্রতা কমানো এবং গ্রাহক ভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আরইবি কর্মকর্তাদের আরও বেশি তৎপর ও যত্নবান হওয়ার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *