স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্তপথে নারী ও শিশুসহ ৯ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশইনের (অনুপ্রবেশ) চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং লাঠিসোঁটা হাতে স্থানীয় জেনতা ও গ্রামবাসীদের ইস্পাতকঠিন যৌথ প্রতিরোধের মুখে বিএসএফের এই অপচেষ্টা নস্যাৎ হয়ে গেছে। তবে কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ প্রান্তের জিরো পয়েন্টে বর্তমানে ওই ৯ জন চরম অনিশ্চয়তার মাঝে অবস্থান করছেন, যার ফলে পুরো সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও অস্থিরতা বিরাজ করছে।
আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬) ভোর থেকে সকালের মধ্যে দুই দফায় রৌমারীর পৃথক দুটি সীমান্ত পয়েন্টে এই পুশইনের ঘটনা ঘটে।
সীমান্ত সূত্র ও বিজিবি জানায়, রোববার ভোর ৬টা ৪০ মিনিটের দিকে ভারতের ঝালুরচর বিএসএফ ক্যাম্পের জোয়ানরা কুড়িগ্রামের শৌলমারী ইউনিয়নের গয়টাপাড়া সীমান্তে এক নারী, দুই শিশু ও তিন যুবকসহ মোট ৬ জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সকাল ৭টার দিকে রৌমারী সদর ইউনিয়নের ইজলামারী সীমান্তে ভারতের ‘সুদুরটিলা’ ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা একইভাবে আরও ৩ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালায়।
বিএসএফের এই অন্যায্য অনুপ্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়া মাত্রই রৌমারীর সীমান্তবর্তী গয়টাপাড়া ও ইজলামারী গ্রামের শত শত বাসিন্দা লাঠিসোঁটা নিয়ে সীমান্ত অভিমুখে ছুটে যান। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের মানুষ বিজিবির সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সীমান্তে মানবঢাল ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। গ্রামবাসী ও বিজিবির এই একাট্টা প্রতিরোধের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় বিএসএফ। তবে পুশইনের শিকার হওয়া ওই ৯ জন ব্যক্তি কাঁটাতারের এপারে ভারতীয় ভূখণ্ডের জিরো পয়েন্টে আটকা পড়েছেন।
এদিকে সীমান্তে জোরপূর্বক জড়ো করা ও ঠেলে দেওয়া ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবি তাদের এই দাবি সরাসরি মেনে না নিয়ে তাদের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এই উদ্ভূত ও থমথমে পরিস্থিতিতে বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে একটি জরুরি পতাকা বৈঠক (ফ্ল্যাগ মিটিং) অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সীমান্তে চরম অস্থিরতা চলছে এবং বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসী সীমান্তে কড়া পাহারায় অবস্থান করছে।
জামালপুর ৩৫-বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রৌমারী সীমান্তে বিজিবির অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন এবং সর্বোচ্চ নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। স্থানীয় সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে বিজিবিকে সার্বিক সহায়তা করছে।”
বিএসএফের পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করা প্রসঙ্গে বিজিবি অধিনায়ক অত্যন্ত শক্ত অবস্থান নিয়ে বলেন, “তারা আসলেই বাংলাদেশি কি না, তা নিশ্চিত হতে সুনির্দিষ্ট পরিচয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তারা যদি কোনোভাবে বাংলাদেশি নাগরিকও হয়ে থাকে, তবুও তাদের এভাবে পুশইন না করে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে আইনি পন্থায় ফেরত পাঠাতে বিএসএফকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”ছবি সংগৃহীত।


