স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের সীমান্ত অঞ্চল দিয়ে দেশের অভ্যন্তরে অবৈধ মরণনেশা ট্যাবলেটের প্রবেশ রোধ এবং মাদক সিন্ডিকেটের মূল উপড়ে ফেলার লক্ষ্যে কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে এক সফল ও ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ডিবি পুলিশের একটি চৌকস ও সশস্ত্র টিম বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১৪০ (একশত চল্লিশ) পিস অবৈধ ও আমদানি নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোঃ তোতা মিয়া (৫৮) নামের এক মাদক কারবারিকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে। গত ২৪ মে বিকেলে বেনাপোল পৌরসভার ০৩ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্ভুক্ত বাহাদুরপুর কলেজগামী রোডের মেসার্স জামান টিম্বার মার্টের সামনে পাকা রাস্তার ওপর এই আভিযানিক সাফল্য আসে। ঈদ মরসুমকে সামনে রেখে সীমান্ত সংলগ্ন ট্রানজিট পয়েন্টগুলো ব্যবহার করে মাদক কারবারিদের এমন বড় ধরনের তৎপরতা রুখতে ডিবির এই তাৎক্ষণিক ঝটিকা অ্যাকশন স্থানীয় সচেতন মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
ডিবি পুলিশের দাপ্তরিক ও আভিযানিক নথির বিবরণ অনুযায়ী, হাতেনাতে গ্রেপ্তারকৃত এই মাদক কারবারি হলেন—যশোরের বেনাপোল পোর্ট থানাধীন ভবেরবেড় গ্রামের বাসিন্দা মৃত অহেত আলীর পুত্র মোঃ তোতা মিয়া (৫৮)। ডিবি পুলিশের সুনির্দিষ্ট দাবি, ধৃত ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সীমান্ত গলিয়ে এই ক্ষতিকারক ইয়াবার চালান এনে বেনাপোল পৌর এলাকাসহ যশোরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বাজারে চড়া দামে খুচরা ও পাইকারি সরবরাহ করে আসছিল।
সফল এই মাদকবিরোধী আভিযানিক অভিযানের বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানায়, যশোরের পুলিশ সুপারের বিশেষ নির্দেশনায় জেলা জুড়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ রাত্রীকালীন ও দিবাগত টহল জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ডিবি যশোরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবলা দাস ও সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সের সমন্বয়ে গঠিত ডিবির একটি শক্তিশালী আভিযানিক টিম গত ২৪ মে বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকায় অবস্থান করছিল। একপর্যায়ে একটি নির্ভরযোগ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি জানতে পারে যে, মেসার্স জামান টিম্বার মার্টের সামনের পাকা রাস্তা দিয়ে মাদকের একটি চালান পাচার করা হচ্ছে। এই সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ বিকেলবেলা বাহাদুরপুর কলেজগামী রোডে এক আকস্মিক ও কৌশলগত ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। এ সময় সন্দেহভাজনভাবে চলাচল করতে দেখে মোঃ তোতা মিয়াকে থামার সংকেত দিলে সে কৌশলে পালানোর চেষ্টা করে। তবে ডিবির জওয়ানরা অত্যন্ত তত্পরতার সাথে তাকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হন।
পরবর্তীতে উপস্থিত স্থানীয় সাধারণ মানুষের সামনে ওই মাদক কারবারির শরীর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় তার হেফাজত থেকে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ১৪০ পিস ক্ষতিকারক ও অবৈধ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য হাজার হাজার টাকা।
এ প্রসঙ্গে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) জানিয়েছে, ধৃত তোতা মিয়া দেশের যুবসমাজ ধ্বংসকারী এই ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিল। হাতেনাতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের ঘটনায় এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর ধারা লঙ্ঘন করায় ধৃত আসামির বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্তভাবে চলমান রয়েছে। সমস্ত আইনি ও দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে আসামিকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। সীমান্ত অঞ্চলকে সম্পূর্ণ মাদক ও চোরাচালানমুক্ত রাখতে এবং ক্ষতিকারক ট্যাবলেটের রুটগুলো বন্ধ করতে ডিবি ও জেলা পুলিশ প্রশাসনের এই বিশেষ চিরুনি তল্লাশি ও আভিযানিক তৎপরতা আগামী দিনগুলোতেও জিরো টলারেন্স ভিত্তিতে বলবৎ থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


