স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
সিরাজগঞ্জ শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত পৌর সুপার মার্কেটে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে আজিমুল ইসলাম আজিম (৪০) নামে এক কাপড় ব্যবসায়ীকে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও রক্তাক্ত অবস্থায় গলাকাটা উদ্ধার করা হয়েছে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৌর সুপার মার্কেটের ‘মেসার্স শীতল ফ্যাশন’ নামের একটি সুসজ্জিত শোরুমের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। আহত ব্যবসায়ী আজিমুল ইসলাম সিরাজগঞ্জ শহরের হোসেনপুর মহল্লার মো. রবিউল আলমের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় বাজার প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে ব্যবসায়ী আজিম প্রতিদিনের মতোই সময়মতো মার্কেটে এসে তাঁর কাপড়ের দোকানটি খোলেন। সে সময় সকাল সকাল হওয়ায় মার্কেটের অধিকাংশ দোকানপাটই বন্ধ ছিল এবং চারপাশ কিছুটা জনশূন্য ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাশের অন্যান্য দোকানের কর্মচারীরা হঠাৎ দেখতে পান আজিমের দোকানের টেনে দেওয়া বন্ধ সাটারের নিচ দিয়ে ফিনকি দিয়ে রক্ত বের হয়ে মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ছে।
এই দৃশ্য দেখে চারদিকে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আশেপাশের লোকজন ছুটে এসে সাটার তুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই স্তম্ভিত হয়ে যান। তারা দেখতে পান দোকানের মেঝের ওপর রক্তাক্ত ও গলাকাটা অবস্থায় ছটফট করছেন ব্যবসায়ী আজিমুল।
ব্যবসায়ীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু ধারালো অস্ত্রের আঘাত তাঁর শ্বাসনালীর কাছাকাছি হওয়ায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে উন্নত ও লাইফ-সাপোর্ট চিকিৎসার জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের (রেফার) পরামর্শ দেন। স্বজনেরা রাতেই তাকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করিয়েছেন।
খবর পেয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম ও ক্রাইম সিনের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং শোরুমের ভেতর থেকে আলামত সংগ্রহ করেছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রাকিবুল ইসলাম জানান, নিজ দোকানের ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁর গলায় ধারালো কোনো অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে।
ওসি আরও বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও মহলে বিভিন্ন ধরণের গুঞ্জন ও রহস্য শোনা যাচ্ছে। কেউ বলছেন, সকালে নির্জনতার সুযোগ নিয়ে কোনো পেশাদার অপরাধী চক্র বা পূর্ব শত্রুতার জেরে তাকে পরিকল্পিতভাবে জবাই করে হত্যার চেষ্টা করেছে। আবার কারও কারও মতে, ব্যবসায়িক কোনো বড় লোকসান বা ঋণের দায়ে তিনি নিজে ব্লেড বা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন। তবে দোকানটির সাটার ভেতর থেকে নাকি বাহির থেকে আটকানো ছিল— সহ সব বিষয় পুরোপুরি তদন্ত না করে এই মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমেছে।”ছবি সংগৃহীত।

