স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
চুয়াডাঙ্গা শহরতলীতে নাচ-গান ও টিকটক করার অভিযোগ তুলে সুবর্ণা আক্তার (৩৫) নামে এক নারীর মরদেহ দাফনে বাধা দিয়েছেন স্থানীয়দের একাংশ। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেলে মরদেহ তার চুয়াডাঙ্গার বাড়িতে পৌঁছানোর পর এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৩ মে) রাতে ঝিনাইদহ শহরের একটি ভাড়া বাসায় স্বামীর সাথে কলহের জেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন সুবর্ণা আক্তার। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তার মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দৌলতদিয়াড় এলাকার নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়। কিন্তু মরদেহ পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয় একদল লোক দাফনে বাধা দেয়।
দাফনে বাধা দেওয়া স্থানীয়দের দাবি, সুবর্ণা ছোটবেলা থেকেই নাচ-গানের সাথে জড়িত ছিলেন এবং টিকটকে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করতেন। তাদের মতে, এটি সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী। এছাড়া ওই পরিবারের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে গ্রামবাসী তাদের নিজস্ব কবরস্থানে সুবর্ণার মরদেহ দাফন করতে দিতে অস্বীকৃতি জানায়। আসাদুজ্জামান নামে এক বাসিন্দা বলেন, “তার চলাফেরা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে আমাদের আপত্তি ছিল, তাই এলাকাবাসী দাফন দিতে রাজি হয়নি।”
মৃত নারীর সৎ বাবা ইসরাইল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এর আগে আমাদের পরিবারের অন্য সদস্যদের এখানেই দাফন করা হয়েছে। এখন কেন বাধা দেওয়া হচ্ছে বুঝতে পারছি না। কবর খুঁড়তেও দেওয়া হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে আমাদের অন্য কোথাও দাফনের জায়গা খুঁজতে হচ্ছে।”
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মৃত ব্যক্তির দাফনকে কেন্দ্র করে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা ও মানবিক প্রশ্ন উঠেছে।
উল্লেখ্য, নিহত সুবর্ণা আক্তার দৌলতদিয়াড় দক্ষিণপাড়ার ওহিদ মোল্লার মেয়ে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের জননী ছিলেন। বর্তমানে এই ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।


