ঝিনাইদহে নতুন নজির : ৪ মাসেই আসামির মৃত্যুদণ্ড

ঝিনাইদহে নতুন নজির : ৪ মাসেই আসামির মৃত্যুদণ্ড

মোঃ মাসুদ রানা (কালীগঞ্জ) ঝিনাইদহঃ

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টিকারী চার বছরের শিশু তাবাসসুমকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ ২২ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ সোমবার ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক মো. আবু ছালেহ জনাকীর্ণ আদালতে এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।

হৃদয়বিদারক এই রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে সন্তোষ প্রকাশ করে নিহত শিশু তাবাসসুমের বাবা নজরুল ইসলাম অশ্রুসিক্ত চোখে ঘাতকের দণ্ড যেন অতি দ্রুত কার্যকর করা হয়, সরকারের কাছে সেই আকুল দাবি জানিয়েছেন।

আদালতের মামলার বিবরণী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকার বাদুরগাছা গ্রাম থেকে হঠাৎ নিখোঁজ হয় চার বছরের অবোধ শিশু তাবাসসুম। সে মহেশপুর উপজেলার ভৈরব এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে কালীগঞ্জ উপজেলার বারবাজার এলাকার বাদেডিহি গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিল।

নিখোঁজের পরদিন চারদিকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে উপজেলার আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু তাবাসসুমের নিথর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিষ্পাপ এই শিশুটিকে অত্যন্ত পাশবিকভাবে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার এই জঘন্য ঘটনাটি সে সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই তদন্তে নামে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে ঘটনার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কুষ্টিয়া জেলা থেকে একমাত্র অভিযুক্ত ও পলাতক আসামি আবু তাহেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এই ঘটনায় বুকভাঙা কষ্ট নিয়ে নিহত শিশুর বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পুলিশি তদন্ত শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করা হলে ঘাতক আবু তাহের নিজের অপরাধের গ্লানি স্বীকার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ বিচারকের সামনে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া চলাকালীন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে মোট ১৭ জন সাক্ষীর গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত রবিবার (২১ জুন) আদালতে উভয়পক্ষের দীর্ঘ যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হওয়ার পর বিজ্ঞ বিচারক মো. আবু ছালেহ সোমবার রায়ের জন্য দিন ধার্য করেন।

আজ সোমবার ঘোষিত চূড়ান্ত রায়ে বিজ্ঞ আদালত জবানবন্দি ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে তোয়া ধর্ষণ ও হত্যার অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা ‘মৃত্যুদণ্ড’ প্রদানের আদেশ দেন। রায়ের পর স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীরা স্বস্তি প্রকাশ করে বলেছেন, এই রায়ের মাধ্যমে সমাজে অপরাধীদের কাছে একটি কঠোর বার্তা পৌঁছাবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *