মো: মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহ পৌর শহরের ভুটিয়ারগাতি গ্রামে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে আট বছর বয়সী এক অবুঝ শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক প্রৌঢ়ের বিরুদ্ধে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ক্ষুব্ধ পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী লিটন বিশ্বাস (৫৫) নামের ওই মুদি দোকানিকে গণপিটুনি দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্তকে আটক করে। আজ শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) বেলা ১২টার দিকে ভুটিয়ারগাতি বিশ্বাসপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটককৃত লিটন বিশ্বাস ভুটিয়ারগাতি গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন মুদি দোকানি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ভুক্তভোগী শিশুটি লিটন বিশ্বাসের মুদি দোকানে সদাই কিনতে যায়। এ সময় দোকানে অন্য কোনো কাস্টমার না থাকার সুযোগে লম্পট লিটন বিশ্বাস চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিশুকে শ্লীলতাহানি ও যৌন হয়রানি করে। একপর্যায়ে শিশুটি চতুরতার সাথে কৌশলে ওই মুদি দোকানির কবল থেকে নিজেকে মুক্ত করে দৌড়ে বাড়িতে ফিরে আসে এবং কান্নায় ভেঙে পড়ে স্বজনদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলে।
কিশোরী শিশুর মুখে এই নির্মম ঘটনার বিবরণ শুনে পরিবারের লোকজন ও স্থানীয় সচেতন গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দলবদ্ধ হয়ে ওই মুদি দোকানে চড়াও হন এবং অভিযুক্ত লিটন বিশ্বাসকে হাতেনাতে ধরে গণপিটুনি দিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়।
খবর পেয়ে ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের একটি আভিযানিক দল দ্রুত ঘটনাস্থল ভুটিয়ারগাতি বিশ্বাসপাড়ায় পৌঁছায়। তারা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য প্রথমে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে বলেন, “একটি শিশুকে মুদি দোকানে যৌন হয়রানির অভিযোগে স্থানীয় জনতা এক দোকানিকে মারধর করে আটকে রেখেছিল। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সেখানে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। বর্তমানে চিকিৎসা শেষে আটক লিটন বিশ্বাসকে সদর থানা হাজতে কঠোর নিরাপত্তায় রাখা হয়েছে।”
ওসি আরও জানান, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার শিকার ভিকটিম শিশুর পরিবারকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে থানায় ডাকা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট এজাহার বা লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তিসাপেক্ষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

