বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,, কলাপাড়া :
পটুয়াখালীর বিখ্যাত পর্যটন নগরী কুয়াকাটার একটি নামী আবাসিক হোটেলে গভীর রাতে এক আকস্মিক ও চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্যসহ ৭ জন যুবককে হাতেনাতে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃত যুবকদের মাদক সেবন ও সংরক্ষণের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত ২টার দিকে কুয়াকাটার অন্যতম আবাসিক হোটেল ‘সি অ্যাডভেঞ্চার ইন’-এ এই বিশেষ টাস্কফোর্স অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। মাদকবিরোধী এই যৌথ অভিযানের নেতৃত্ব দেন কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক এবং কলাপাড়া মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল।
অভিযান পরিচালনাকারী দল সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন এলাকার ওই আবাসিক হোটেলে একদল যুবক মাদক কেনাবেচা ও সেবনের মহোৎসব চালাচ্ছে—এমন একটি সুনির্দিষ্ট গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গভীর রাতে হোটেল ‘সি অ্যাডভেঞ্চার ইন’-এ হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হোটেলের কক্ষ তল্লাশি করে অভিযুক্ত যুবকদের হেফাজত থেকে ২৫ পিস ক্ষতিকর ইয়াবা ট্যাবলেট, ৫০ গ্রাম গাঁজা এবং ১ বোতল বিদেশি হুইস্কি মদ জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃতদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৪২ (১) ধারায় তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা প্রদান করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়া এই চক্রের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কলাপাড়া থানায় একটি পৃথক নিয়মিত মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত যুবকদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। তাঁরা হলেন—মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়নের খাজুরা গ্রামের মো. আরিফ বেপারী (২২), কুয়াকাটার তুলাতলী এলাকার মো. হাসান মৃধা (২৩), রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার নাচনা মুরাদপুর গ্রামের নিরব প্রামাণিক (২১), রাজবাড়ীর তামিলি দুর্গাপুর এলাকার মো. সায়েদ ইসলাম (২০), মো. হাসিবুল ইসলাম (১৯), মহিপুর সদর ইউনিয়নের বিপিনপুর গ্রামের মো. বাপ্পি (১৯) এবং ঝালকাঠির কাঠালিয়া উপজেলার কচুয়া এলাকার মো. বিল্লাল (২২)।
আদালতের রায় অনুযায়ী, মূল অভিযুক্ত মো. আরিফ বেপারী এবং মো. হাসান মৃধা—এই দুজনকে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, অপরাধে সহযোগী ও লঘু অপরাধের দায়ে অপর পাঁচজন যথাক্রমে নিরব প্রামাণিক, সায়েদ ইসলাম, হাসিবুল ইসলাম, মো. বাপ্পি ও মো. বিল্লালকে ১৪ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১০০ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন আদালত।
সফল এই অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক গণমাধ্যমকে জানান, ‘মাদকদ্রব্য সেবন, বহিরাগতদের এনে আসর বসানো ও অবৈধভাবে মাদক সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই আমরা এই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। কুয়াকাটার মতো একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন নগরীর নিরাপত্তা ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এই ধরনের জিরো টলারেন্স অভিযান ও কঠোর নজরদারি ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।’ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের রাতেই যথাযথ পুলিশি পাহারায় কারাগারে প্রেরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নিশ্চিত করেছে। ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

