স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে ভুয়া ছবি, জাল প্রোফাইল ও প্রতারণা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় ফেসবুক নিয়ে এলো এক যুগান্তকারী ফিচার। এখন থেকে কোনো প্রকার ফি বা টাকা-পয়সা দেওয়া ছাড়াই সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাঁদের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের জন্য ‘ভেরিফায়েড ব্যাজ’ পাবেন।
আজ শনিবার (২৫ জুলাই ২০২৬) মেটার পক্ষ থেকে এই নতুন ফ্রি ভেরিফিকেশন সেবার কথা জানানো হয়েছে।
অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে, এটি কি আগের পেইড সাবস্ক্রিপশন? মেটা স্পষ্ট করেছে, টাকার বিনিময়ে নেওয়া ‘মেটা ভেরিফায়েড’ সার্ভিসটির থেকে এই নতুন ‘ফেসবুক ভেরিফায়েড’ সার্ভিসটি সম্পূর্ণ আলাদা। এটি নিখরচায় সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে, যার মূল উদ্দেশ্য অ্যাকাউন্টধারী একজন সত্যিকারের রক্তমাংসের মানুষ কি না—তা প্রমাণ করা।
এই ফ্রি ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ। ব্যবহারকারীকে অ্যাপের মাধ্যমে একটি সংক্ষিপ্ত ‘সেলফি ভিডিও’ রেকর্ড করে পাঠাতে হবে। মেটার অ্যালগরিদম সেই ভিডিওটির সঙ্গে প্রোফাইলের বর্তমান ছবির মিল যাচাই করবে। পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই শেষ হবে।
যাঁরা এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য হবেন:
-
ব্যবহারকারীর বয়স অবশ্যই অন্তত ১৮ বছর হতে হবে।
-
ফেসবুকের কোনো কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘন বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের ইতিহাস থাকা যাবে না।
-
ভিডিওর মাধ্যমে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হতে হবে।
এই ভেরিফিকেশন সফল হলে ব্যাজটি ব্যবহারকারীর প্রোফাইল ছাড়াও মার্কেটপ্লেস, বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ ও ফেসবুক ডেটিং অপশনে দৃশ্যমান হবে। ভবিষ্যতে নিউজ ফিডেও এটি যুক্ত করার চিন্তা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।
কেন মেটার এই জরুরি পদক্ষেপ?
এআই দিয়ে খুব সহজেই হুবহু মানুষের মতো ছবি বানিয়ে ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে অনলাইন প্রতারণা চালাচ্ছিল একশ্রেণির অপরাধী। মেটা জানাচ্ছে, এই ব্যাজটি নির্দেশ করবে যে সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলটির পেছনে আসল একজন মানুষ রয়েছে। তবে এটি কোনো ব্যক্তির সততা বা বিশ্বাসযোগ্যতার চূড়ান্ত সনদ নয়, শুধু তাঁর প্রকৃত সত্তার পরিচয় বহন করে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রথমে নির্দিষ্ট কিছু দেশে পরীক্ষামূলকভাবে ফিচারটি চালু করা হবে এবং পরবর্তীতে তা বিশ্বজুড়ে পর্যায়ক্রমে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।
সুএ ও ছবি-প্রথম আলো থেকে সংগৃহীত।


