ঈদের দিনে জন্মদাত্রী মাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে

ঈদের দিনে জন্মদাত্রী মাকে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল ছেলে

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ আর খুশির সকালে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক বীভৎস ও হৃদয়বিদারক হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পারিবারিক কলহের জেরে ছেলে হোসেন শেখের (২৯) কোদালের নির্মম কোপে তাঁর জন্মদাত্রী মা ফুলজান বেগম (৬০) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) ঈদের দিন সকাল ৯টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের পণ্ডিত বানা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফুলজান বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা হাফিজার শেখের স্ত্রী। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত ছেলে হোসেন শেখ এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দা সূত্রে জানা গেছে, পেশায় দিনমজুর হোসেন শেখ কয়েক বছর আগে প্রথম বিয়ে করেছিলেন। তবে বিয়ের মাত্র এক বছরের মাথায় তাঁর স্ত্রী তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকেই হোসেন পুনরায় বিয়ে করার জন্য পরিবারকে চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর দ্বিতীয় বিয়েতে সায় না দেওয়ায় বাবা-মায়ের ওপর তীব্র ক্ষোভ ও মানসিক অসন্তোষ বিরাজ করছিল হোসেনের মনে।

আজ ঈদের দিন সকাল ৯টার দিকে হোসেনের ঘরের সামনের ফাঁকা জায়গায় তাঁর মা ফুলজান বেগম একটি ফুলগাছের চারা রোপণ করতে যান। এ সময় মায়ের সাথে হোসেনের সাংসারিক নানা বিষয় এবং দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে হোসেন চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ঘর থেকে একটি মাটি কাটার কোদাল এনে সরাসরি মা ফুলজান বেগমের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। কোদালের কোপে মাথা ও মগজ মারাত্মকভাবে জখম হয়ে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হতভাগ্য মা। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো পরিবার ও এলাকায় ঈদের আনন্দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে আসে।

খবর পেয়ে আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পরিদর্শন করে। আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে ঘাতক ছেলে হোসেন কিছুটা মানসিকভাবে অসুস্থ প্রকৃতির। সে প্রায়শই ছোটখাটো বিষয় নিয়ে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করত, আবার নিজের ভুল বুঝতে পেরে মায়ের কাছে ক্ষমাও চাইত। কিন্তু আজকের ঘটনাটি মারাত্মক রূপ নেয়। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত যুবক এলাকা থেকে পালিয়ে গেছে। সে কোনো ধরনের মুঠোফোন (মোবাইল) ব্যবহার না করায় তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশকে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। তবে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনতে এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম ইতিমধ্যে চিরুনি অভিযান শুরু করেছে। প্রতীকী-ছবি ।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *