স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
দেশের হাজার হাজার বেসরকারি মাদ্রাসার (দাখিল, আলিম ও ফাজিল) ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডিতে কেবল ‘লবিং’ আর ‘পেশিশক্তির’ জোরে বসার দিন এবার চিরতরে শেষ। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মাদ্রাসার কোটি কোটি টাকার তহবিল আর শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত নেতাদের লাগাম টেনে ধরেছে সরকার। মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি হতে হলে টেবিলে জমা দিতে হবে ন্যূনতম ‘স্নাতক (পাস) বা সমমানের ডিগ্রি’র মূল শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট!
চলতি মে মাসের ১৭ তারিখে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মো. নুরুল হক স্বাক্ষরিত এক ঐতিহাসিক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় এই সংস্কারের আদেশ জারি করা হয়েছে, যা আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দেশজুড়ে টক অব দ্য কান্ট্রি।
মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের এই একটিমাত্র প্রজ্ঞাপন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মাদ্রাসাগুলোর ‘ব্যাক-ডোর পলিটিক্স’-এ বড় ধরণের ভূমিকম্প ঘটিয়ে দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ ছিল, স্থানীয় প্রভাবশালী, অশিক্ষিত কিংবা নামেমাত্র স্বাক্ষর জানা ব্যক্তিরা দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার সভাপতি পদে জেঁকে বসতেন। এদের মূল টার্গেট থাকত— সরকারি অনুদান হজম করা, মাদ্রাসার জমি দখল এবং কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে অযোগ্য শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া।
শিক্ষা বোর্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, নতুন নিয়ম অবিলম্বে কার্যকর হচ্ছে। এর ফলে:
-
শিক্ষাগত যোগ্যতার অকাট্য সনদ ছাড়া কোনো ব্যক্তি সভাপতি পদে নির্বাচন বা প্যানেল জমা দিতে পারবেন না।
-
কেবল শিক্ষাগত যোগ্যতাই নয়; প্রার্থীর নামে যদি কোনো ধরণের ফৌজদারি মামলা, আদালতের সাজা বা দুর্নীতির কালো দাগ থাকে, তবে তিনি শুরুতেই ‘অযোগ্য’ বলে আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “অশিক্ষিত ও উগ্র মানসিকতার সভাপতিদের কারণে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে পড়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে তারা যোগ্য ও উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের সাথেও যাচ্ছেতাই আচরণ করতেন। প্রাতিষ্ঠানিক এই চরম অরাজকতা ও অদক্ষতা দূর করতেই সরকার এই সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।”
দেশের প্রগতিশীল শিক্ষাবিদ এবং সাধারণ অভিভাবকেরা সরকারের এই মাস্টারস্ট্রোককে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, মাদ্রাসার রাশ যখন শিক্ষিত ও ক্লিন ইমেজের মানুষদের হাতে যাবে, তখন দেশের ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিক হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ফিরে আসবে। সংগৃহীত ফাইল ছবি।


