আ.লীগ-বিএনপি সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১৬

আ.লীগ-বিএনপি সমর্থকদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে আহত ১৬

মোঃ মাসুদ রানা, ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলায় দীর্ঘদিনের পূর্ব বিরোধ ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সমর্থকদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী ও ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দুই পক্ষের এই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ১৬ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক মারাত্মকভাবে আহত ও রক্তাক্ত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে দ্রুত ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থনান্তর ও ভর্তি করা হয়েছে। আজ ২০ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শনিবার সকালে হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ফলসী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত বোয়ালিয়া গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর থেকে পুরো গ্রামজুড়ে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় বিপুল সংখ্যক অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ১৯ জুন শুক্রবার বোয়ালিয়া গ্রামের একটি পুকুরের মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে এক সন্দেহের জেরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রকিবুল ইসলামকে একা পেয়ে প্রতিপক্ষরা নির্মমভাবে মারধর করে। উল্লেখ্য, মারধরের শিকার এই রকিবুল ইসলাম হরিণাকুণ্ডু উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং বর্তমান ফলসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের আপন ছোট ভাই।

শুক্রবার নেতার ভাইকে মারধরের এই ঘটনার জের ধরে আজ শনিবার সকাল থেকেই ইউপি চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের ক্ষুব্ধ সমর্থক ও অনুসারীদের সাথে বিএনপি-সমর্থিত সাবেক ইউপি সদস্য (মেম্বার) মশিয়ার রহমানের অনুসারীদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও গালাগালি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনার পারদ চরমে পৌঁছালে উভয় পক্ষের শত শত মানুষ রামদা, ঢাল, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেলসহ বিভিন্ন দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১৬ জন গুরুতর আহত হন। এর মধ্যে অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় ৫ জনকে ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এবং আরও ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি অন্যান্য আহতরা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।

খবর পেয়ে হরিণাকুণ্ডু থানা পুলিশের একটি বিশাল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করে। ঘটনার সত্যতা ও বর্তমান পরিস্থিতি নিশ্চিত করে হরিণাকুণ্ডু থানার ওসি (তদন্ত) অসিত কুমার রায় গণমাধ্যমকে জানান, “সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে বোয়ালিয়া গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি রুখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কড়া নজরদারি রাখছে। এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *