স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ফেরিঘাট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে আট মাস বয়সি অবুঝ শিশুসন্তানের সামনে তার মাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের এক অত্যন্ত বর্বরোচিত ও পাশবিক অভিযোগ উঠেছে। এই সঘৃণ্য অপরাধের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামীর লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক অ্যাকশন নিয়ে অভিযুক্ত হোটেল মালিক কবির মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে চিলমারী মডেল থানা পুলিশ। শনিবার (৩০ মে, ২০২৬) সকালে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শুক্রবার রাতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবারের দায়ের করা অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা গেছে, আট মাসের অবুঝ সন্তানসহ ওই দম্পতি গাইবান্ধার এক খালার বাড়ি সৈয়দপুর থেকে নিজেদের বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। পথিমধ্যে গত বৃহস্পতিবার রাতে তাঁরা কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার ঘুঘুমারীরচর এলাকার রমনা ফেরিঘাটে এসে পৌঁছান। তবে গভীর রাত হয়ে যাওয়ায় নদী পারাপারের জন্য কোনো নৌকা না পেয়ে তাঁরা বাধ্য হয়ে ওই রাতে থাকার জন্য রমনা ঘাট এলাকার ‘হোটেল কলি’ নামের একটি আবাসিক হোটেলে ওঠেন।
হোটেলের একটি কক্ষে স্ত্রী ও দুগ্ধপোষ্য সন্তানকে রেখে তাঁদের রাতের খাবারের ব্যবস্থা করতে হোটেল থেকে বের হয়ে কিছুটা দূরের থানাহাট বাজারে যান ওই নারীর স্বামী। বাজার থেকে খাবার কিনে নিয়ে কিছুক্ষণ পর তিনি যখন হোটেলের কক্ষে ফিরে আসেন, তখন নিজের স্ত্রীকে প্রচণ্ড কান্নাকাটি ও অক্ষত অবস্থায় ভেঙে পড়তে দেখেন। স্বামীর উপর্যুপরি জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান যে, তাঁর স্বামী বাইরে যাওয়ার সুযোগে হোটেলের মালিক লম্পট কবির মিয়া কক্ষে ঢুকে অবুঝ সন্তানের সামনেই তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে পালিয়ে গেছে। এই পৈশাচিক ঘটনা জানার পরপরই ভুক্তভোগীর স্বামী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের শরণাপন্ন হন এবং তাঁর সক্রিয় সহযোগিতায় চিলমারী মডেল থানা পুলিশকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার সাথে সাথে চিলমারী মডেল থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারী, তাঁর স্বামী ও শিশুসন্তানকে উদ্ধার করে নিরাপদ হেফাজতে থানায় নিয়ে আসে। চিলমারী মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নয়ন কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এই ন্যাক্কারজনক ও জঘন্য অপরাধের ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ আসামিকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালায় এবং মূল অভিযুক্ত হোটেল মালিক কবির মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। আজ সকালেই তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। প্রতীকী-ছবি ।

