স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
গাজীপুরের শ্রীপুরে পবিত্র ধর্মীয় লেবাস ও মসজিদের ইমামতির আড়ালে লুকিয়ে থাকা এক নরপশুর বর্বরোচিত, পৈশাচিক ও গা শিউরে ওঠা চরম পারিবারিক যৌন নির্যাতনের ঘটনা উদঘাটিত হয়েছে। শ্রীপুর পৌরসভা এলাকায় স্থানীয় একটি মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির এক অবুঝ ছাত্রীকে রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় জোরপূর্বক ধর্ষণচেষ্টা ও দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক যৌন নিপীড়নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে খোরশেদ আলম (৫৫) নামে এক মসজিদের ইমামকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশ। ধৃত এই লম্পট খোরশেদ আলম সম্পর্কে ভুক্তভোগী অবুঝ শিশুটির আপন বাবার আপন চাচাতো ভাই তথা ভিকটিমের আপন রক্তসম্পর্কীয় চাচা। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালের দিকে শ্রীপুর থানা পুলিশের একটি চৌকস ও সশস্ত্র আভিযানিক দল লোহাগাছ গ্রামে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মা হারা ও প্রবাসী বাবার এই অসহায় শিশুটির ওপর এমন বর্বরোচিত ও পৈশাচিক কায়দায় নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো গাজীপুর জুড়ে তীব্র ক্ষোভ অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, নিপীড়নের শিকার হওয়া এই শিশুটি স্থানীয় একটি মাদরাসার চতুর্থ শ্রেণির নিয়মিত ছাত্রী। গত প্রায় এক বছর আগে তিন সন্তানকে সম্পূর্ণ ফেলে রেখে মেয়েটির জন্মদাত্রী মা অন্য এক ব্যক্তির সাথে নতুন করে সংসার পাতেন এবং তাঁর আপন পিতা জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। মা-বাবার অনুপস্থিতিতে অসহায় ছেলে-মেয়েরা শ্রীপুর পৌরসভার লোহাগাছ গ্রামে তাদের দাদার বাড়িতে অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করে আসছিল। এই সুযোগে প্রতিবেশী তথা বাবার চাচাতো ভাই খোরশেদ আলমের স্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ওই মাদরাসা পড়ুয়া ছাত্রীকে একাকীত্ব দূর করার কথা বলে রাতে তাদের নিজেদের ঘরে ডেকে নিত এবং একই খাটে একসাথে নিয়ে ঘুমাত। কিন্তু গভীর রাতে চাচি ঘুমিয়ে পড়লে পাষণ্ড ও নরপশু চাচা খোরশেদ আলম পবিত্র ইমামতির লেবাস সম্পূর্ণ খুলে ফেলে দীর্ঘকাল ধরে ওই ঘুমন্ত অবুঝ শিশুটির ওপর পাশবিক ও বর্বরোচিত কায়দায় নানামুখী যৌন নিপীড়ন চালিয়ে আসছিল।
ঘটনার চরম ও চূড়ান্ত বিবরণ দিয়ে স্বজনরা জানায়, গত কয়েকদিন আগে গভীর রাতে কলোনীর সব মানুষ যখন ঘুমন্ত, ঠিক তখন একইভাবে ঘুমন্ত ওই ছাত্রীর ওপর চড়াও হয় এবং কাপড় ছিঁড়ে ফেলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায় কামোন্মাদ খোরশেদ আলম। এ সময় তীব্র ব্যথায় ও আতঙ্কে শিশুটি চিৎকার করে উঠলে পাশের ঘরে থাকা খোরশেদের স্ত্রীর ঘুম হঠাৎ ভেঙে যায়। ঘটনাটি হাতেনাতে প্রকাশ পেয়ে গেলে অপরাধ ধামাচাপা দিতে লম্পট খোরশেদের পুরো পরিবার একজোট হয়ে নাবালিকা শিশুটিকে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে এবং বিষয়টি বাড়ির অন্য কাউকে বা প্রতিবেশীদের জানালে তাকে সপরিবারে উচ্ছেদ ও প্রাণনাশের তীব্র হুমকি প্রদান করে। ফলে তীব্র আতঙ্কে ও লোকলজ্জার ভয়ে অবুঝ মেয়েটি বেশ কিছুদিন ধরে এই লোমহর্ষক বিষয়টি কাউকে বলতে না পেরে এক অবর্ণনীয় মানসিক ট্রমা ও কান্নার মধ্যে দিনাতিপাত করছিল। পরবর্তীতে শিশুটির শারীরিক ও মানসিক অস্বাভাবিকতা দেখে পরিবারের অন্য স্বজনরা তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে চাচার এই পৈশাচিক তাণ্ডবের কথা অশ্রুসিক্ত চোখে সম্পূর্ণ প্রকাশ করে দেয়।
ঘটনাটি জানার পর পরই ভুক্তভোগী শিশুর দাদা ও স্থানীয় অভিভাবকরা গতকাল রাতে শ্রীপুর মডেল থানায় হাজির হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কঠোর ধারা লঙ্ঘন করায় লম্পট ইমাম খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট ও নিয়মিত ধর্ষণচেষ্টার ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম আজ দুপুরে ঘটনার আইনগত ও দাপ্তরিক অগ্রগতির বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে স্পষ্ট ভাষায় নিশ্চিত করেছেন যে, পবিত্র মসজিদের ইমামতির আড়ালে আপন ভাজিতির ওপর এমন বর্বরোচিত ও মধ্যযুগীয় কায়দায় যৌন নির্যাতনের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে প্রশাসন। মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ আভিযানিক দল গভীর রাতে লোহাগাছ গ্রামের ওই লম্পটের ডেরায় আকস্মিক ব্লক রেইড দিয়ে অভিযুক্ত খোরশেদ আলমকে লোহার খাঁচায় পুরে। আজ দুপুরের দিকেই ধৃত আসামীকে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে গাজীপুরের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং বিজ্ঞ বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। [ছবি সংগৃহীত]


