স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
মাদারীপুর জেলার কালকিনী থানার বহুল আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর অজ্ঞাতনামা যুবক ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। একই সাথে এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা এবং দেশের বিভিন্ন থানায় খুন, ডাকাতি, দস্যুতা ও ভারী অস্ত্র মামলাসহ সর্বমোট ১৮টি মামলার এজাহারনামীয় দুর্ধর্ষ ও পলাতক আসামি লিটন মাতুব্বরকে ঝটিকা অভিযানে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র্যাব-৮।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এবং সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে ঝালকাঠি জেলার সদর থানাধীন বিকোনিয়া এলাকায় এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত শীর্ষ অপরাধী হলেন— মো: লিটন মাতুব্বর (৪৬), পিতা: শাহজাহান মাতুব্বর, গ্রাম: আকনকান্দা, থানা: কাজিরহাট, জেলা: বরিশাল।
র্যাব সূত্রে প্রাপ্ত মামলার এজাহারের বিবরণে জানা যায়, বিগত ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে মাদারীপুর জেলার কালকিনী থানাধীন কালাই সরদারের চর এলাকার জনৈক সোবাহান খাঁ-এর বাড়ির আমবাগানের উত্তর পাশে স্তূপ করে রাখা ঘাসের মধ্যে অজ্ঞাতনামা এক যুবকের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় দুই ভাই সবুজ খাঁ ও শরিফুল খাঁ।
ঘটনাটি কালকিনী থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সে সময় নিহতের কোনো পরিচয় না মেলায় কালকিনী থানা পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা দায়ের করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দীর্ঘ তদন্ত ও তথ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে বরিশালের কুখ্যাত অপরাধী লিটন মাতুব্বরের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। লিটন অত্যন্ত চতুর হওয়ায় এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক ওয়ারেন্ট থাকায় সে ছদ্মবেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। তাকে গ্রেফাতারের জন্য কালকিনী থানা পুলিশ র্যাব-৮ বরিশাল অধিনায়ক বরাবর একটি অফিশিয়াল অধিযাচনপত্র (রিকুইজিশন) প্রেরণ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৮, সিপিএসসি, বরিশালের একটি চৌকস আভিযানিক দল আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি এবং ডিবি সাইবার ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে লিটনের অবস্থান নিশ্চিত করে। আজ বুধবার দুপুরে ঝালকাঠি সদর থানার বিকোনিয়া এলাকায় ঘেরাও করে এই দুর্ধর্ষ আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে লিটনকে পরবর্তী আইনানুগ ও আইনি প্রক্রিয়ার জন্য বরিশাল মেট্রোপলিটনের কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৮ এর মিডিয়া উইং জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত লিটন মাতুব্বর একজন পেশাদার ও দুর্ধর্ষ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার এবং কিলার। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন জেলা ও থানায় হত্যা, ডাকাতি, দস্যুতা, দাঙ্গা এবং ভারী আগ্নেয়াস্ত্র আইনসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের সর্বমোট ১৮টি মামলা চলমান রয়েছে।
র্যাব-৮, বরিশাল এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, অপরাধমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র্যাব নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদারীপুর ও বরিশালের এই ত্রাস লিটন মাতুব্বরের গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে একটি বড় অপরাধী চক্রের পতন ঘটলো। এই ধরণের কুখ্যাত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে র্যাবের কঠোর ও আপসহীন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ছবি সংগৃহীত।


