স্ফুলিঙ্গে সংবাদের জেরে মহম্মদপুরের ডিলার বাবুকে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিল টিসিবি

স্ফুলিঙ্গে সংবাদের জেরে মহম্মদপুরের ডিলার বাবুকে ৭ দিনের আলটিমেটাম দিল টিসিবি

জাকির হোসাইন (তুষার),মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি :

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নে হতদরিদ্রদের টিসিবির চাল পাচারের ঘটনায় অভিযুক্ত ডিলারের বিরুদ্ধে এবার চূড়ান্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অংশ হিসেবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) জারি করেছে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)। গত ১৩ মে আপনার জনপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘স্ফুলিঙ্গ অনলাইন’-এ “টিসিবির ৪৩৪ কেজি চাল পাচারকালে জব্দ” শিরোনামে এক্সক্লুসিভ সংবাদ প্রকাশের পর এই দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ নিল কর্তৃপক্ষ।

টিসিবি ঝিনাইদহ ক্যাম্প অফিসের উপ-পরিচালক (অফিস প্রধান) আকরাম হোসেন স্বাক্ষরিত (স্মারক নং- ২৬.০৫.৪৪০০.০০১.৪৫.০২০.২০/২৬৯) ওই অফিসিয়াল চিঠিতে পরিষ্কার উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে দৈনিক স্ফুলিঙ্গ অনলাইন পত্রিকায় নাগড়া বাজারের ডিলার ‘বাবু এন্টারপ্রাইজ’-এর চাল কালোবাজারে বিক্রির সংবাদটি তাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত পণ্য কালোবাজারে বিক্রি করা টিসিবির ডিলারশিপ নিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী সম্পূর্ণ ‘বাতিলযোগ্য অপরাধ’। নীতিমালার শর্ত ১০(এফ) ধারা অনুযায়ী, মিডিয়া বা অন্য কোনোভাবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ডিলারশিপ বাতিল করা হবে। এই অপরাধে কেন তার ডিলারশিপ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হবে না—তা নোটিশ প্রাপ্তির ৭ (সাত) দিনের মধ্যে লিখিতভাবে জবাব দাখিল করার জন্য অভিযুক্ত ডিলার মোঃ রফিকুল ইসলাম বাবুকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণে সরকারি নিয়ম ও নীতিমালা ভঙ্গ করে একই সাথে ‘টিসিবি’ এবং ‘খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি’র দুটি ডিলারশিপ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই দুটি ডিলারশিপের মাধ্যমে কার্ডধারীদের প্রাপ্য চাল ও মালামাল গোপনে আত্মসাৎ করে খোলা বাজারে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিলেন তিনি। ‘স্ফুলিঙ্গ’র অকাট্য সংবাদের জেরে টিসিবির এই অফিসিয়াল নোটিশ জারির খবরে পুরো মহম্মদপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে তদন্ত সাপেক্ষে তার দুটি ডিলারশিপই বাতিল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহ. শাহনুর জামান ‘স্ফুলিঙ্গ’কে বলেন, “সরকারি চাল বা পণ্য নিয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা গরিবের হক আত্মসাৎ করা হলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। টিসিবির বিভাগীয় শো-কজের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কঠোর আইনি নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়া চলমান থাকবে।”ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *