জাকির হোসাইন তুষার,মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসুস্থতার খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে উড়িয়ে দিয়েছে তাঁর পরিবার। মনগড়া ও অসত্য এই সংবাদ প্রচারে তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতাকর্মীরা এ ঘটনাকে সুপরিকল্পিত অপপ্রচার আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সম্প্রতি কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে সংস্কৃতি মন্ত্রীর অসুস্থতা ও স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারা নিয়ে একটি ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়। মুহূর্তের মধ্যেই খবরটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানতে পেরে মন্ত্রী পরিবারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পরিষ্কার করা হয় এবং জানানো হয় যে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন ও নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, যাচাই-বাছাই ছাড়া এ ধরনের অসত্য তথ্য ছড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে যেমন অযথা বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে, তেমনি পরিবারকেও মানসিকভাবে হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে। এই অসৎ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার পেছনে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া বিবেচনা করা হচ্ছে। অকাট্য প্রমাণ ছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত যেকোনো তথ্যে কান না দিতে সর্বসাধারণের প্রতি বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এদিকে সংবাদটি ছড়ানোর পর মাগুরার মহম্মদপুরসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সাধারণ মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও মন্ত্রীর সমর্থকদের মতে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধি ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার করে কাল্পনিক তথ্য ছড়ানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল বা ব্যক্তিগত হীন উদ্দেশ্যেই যে এই বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তারা নিশ্চিত।
এ ধরনের সাইবার অপরাধ ও সম্মানহানির ঘটনা রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন নাগরিকেরা। তারা বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিটি মানুষের নৈতিক দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। নিশ্চিত না হয়ে যেকোনো তথ্য শেয়ার করার প্রবণতা ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। ভবিষ্যতে যেন কেউ কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তিত্বকে নিয়ে এ ধরনের গুজব ছড়ানোর সাহস না পায়, সেজন্য দায়ীদের অবিলম্বে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয়। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

