ধর্ষণ মামলায় ফেঁসেছিলেন ইমাম : ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল কিশোরীর আপন বড় ভাইয়ের ‘পাপের’ প্রমাণ!

ধর্ষণ মামলায় ফেঁসেছিলেন ইমাম : ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল কিশোরীর আপন বড় ভাইয়ের ‘পাপের’ প্রমাণ!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

ফেনীর পরশুরামে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে মসজিদের ইমামকে ফাঁসানোর যে ন্যাক্কারজনক চক্রান্ত করা হয়েছিল, ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অবশেষে তার অবসান ঘটেছে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে সিআইডির ডিএনএ প্রতিবেদনে প্রমাণিত হয়েছে যে, অভিযুক্ত ইমাম মোজাফফর আহমদ নির্দোষ। উল্টো বেরিয়ে এসেছে কিশোরীর ভূমিষ্ঠ হওয়া সন্তানের প্রকৃত পিতৃপরিচয়; যা খোদ ওই কিশোরীর আপন বড় ভাই।

২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর পরশুরামের এক কিশোরীর (১৪) পরিবার দাবি করে, ৫ বছর আগে মক্তবে পড়ার সময় স্থানীয় জামে মসজিদের ইমাম মোজাফফর আহমদ তাকে ধর্ষণ করেছিলেন। কিশোরী সন্তান প্রসব করলে তার মা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এদিকে, ২৬ নভেম্বর অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে আদালতে পাল্টা মামলা করতে গিয়ে গ্রেফতার হন ইমাম মোজাফফর। ১ মাস ২ দিন কারাভোগের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।

মামলার তদন্তের সময় কিশোরীকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেয়। কিশোরী স্বীকার করে যে, তার আপন বড় ভাই (২২) তাকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিল। বড় ভাইয়ের অপরাধ আড়াল করতেই পরিবারের সদস্যরা মিলে মসজিদের ইমাম মোজাফফরকে বলির পাঁঠা বানিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করেন। এরপরই ২০২৫ সালের মে মাসে পুলিশ অভিযুক্ত ভাইকে গ্রেফতার করে। আদালতে ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে তিনি নিজের বোনকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেন।

আদালতের নির্দেশে কিশোরী, তার শিশুকন্যা এবং বড় ভাইয়ের ডিএনএ নমুনা ঢাকায় পাঠানো হয়। গত ৯ আগস্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে, কিশোরীর বড় ভাইয়ের সঙ্গেই শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল রয়েছে। প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, কারাবরণ করা ইমাম মোজাফফর আহমদ ওই শিশুর পিতা নন।

পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক শরীফ হোসেন মামলার অভিযোগপত্রে ইমাম মোজাফফরকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। বিপরীতে কিশোরীর আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, “ডিএনএ পরীক্ষায় প্রকৃত সত্য সামনে আসার পর নিরপরাধ ইমামের নাম চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত অপরাধীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”

ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত প্রতীকী-ছবি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *