গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা জানানো এখন থেকে দণ্ডনীয় : ডিজিটাল নজরদারির নির্দেশ

গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, তা জানানো এখন থেকে দণ্ডনীয় : ডিজিটাল নজরদারির নির্দেশ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

অনাগত শিশুর লিঙ্গ নির্ধারণ এবং তা প্রকাশ করার অনৈতিক চর্চা বন্ধে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এখন থেকে গর্ভের সন্তান ছেলে না মেয়ে, সেই তথ্য কোনোভাবেই প্রকাশ করা যাবে না বলে আদালত কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (১১ মে) বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়।

 হাইকোর্ট তার পর্যবেক্ষণে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ ও তা প্রকাশ করা কেবল অনৈতিকই নয়, বরং এটি নারীর প্রতি বৈষম্যকে সরাসরি উৎসাহিত করে। আদালত বলেন, এর ফলে কন্যাশিশু হত্যার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়, যা সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং দেশের সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থি।

রায়ে আরও বলা হয়, এ ধরনের চর্চা নারীর মর্যাদা, সমতা এবং জীবনের অধিকারের বিরুদ্ধে যায়। এটি কেবল দেশের আইন নয়, বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতারও চরম লঙ্ঘন।

আদালত আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কার্যকর কোনো নিয়ন্ত্রণ, মনিটরিং বা জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা ছিল না। হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়:

  • কেবল একটি গাইডলাইন বা নীতিমালা প্রণয়ন করলেই প্রশাসনের দায়িত্ব শেষ হয় না।

  • এটি বন্ধে বাস্তবায়নযোগ্য নীতিমালা এবং কঠোর ডিজিটাল নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

  • কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া এই অনৈতিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আদালত এই বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত রায় ঘোষণা করেছিলেন। আজ সেই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশের মাধ্যমে ভ্রূণের লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধের বিষয়টি আইনিভাবে চূড়ান্ত রূপ পেল।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই রায়ের ফলে দেশের চিকিৎসা খাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং কন্যাশিশুদের সুরক্ষায় এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে। এখন থেকে কোনো হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ প্রকাশ করলে তা আদালত অবমাননা ও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। ফাইল  ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *