চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপি নেতা কাফিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

চাঁদাবাজির অভিযোগে এনসিপি নেতা কাফিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী):

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বহুল আলোচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও এনসিপি নেতা নুরুজ্জামান কাফি, তাঁর পিতা এবং বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি ও শিক্ষকদের হুমকি প্রদানের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

রবিবার খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম বাদী হয়ে কলাপাড়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি (মামলা নং- ৭৩৯) দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের পর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) নির্দেশ প্রদান করেছেন।

মামলার নথি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ জুলাই সকাল সোয়া ১০টার দিকে রজাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা নুরুজ্জামান কাফি, তাঁর পিতা এবিএম হাবিবুর রহমান এবং ভাই মামুন ভেকু মেশিন, ট্রলি, ভ্যান ও খোয়া নিয়ে খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মালিকানাধীন বিএস ৫৯ নম্বর দাগের জমিতে অনাধিকার প্রবেশ করেন। তারা জমির মাটি কেটে আকার পরিবর্তন করে জোড়পূর্বক যাতায়াতের রাস্তা তৈরির চেষ্টা করেন।

সংবাদ পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অন্য পাঁচজন সহকারী শিক্ষককে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে কাফি ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং শিক্ষক আবদুর রহিমের নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শিক্ষকদের লাঞ্ছিত ও জখমের ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরবর্তীতে আসামিরা উক্ত জমির আনুমানিক এক লাখ টাকা মূল্যের মাটি কেটে নিয়ে যায় এবং পাথর ফেলে রাস্তা তৈরি করে এতে অন্তত ৫ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুর রহিম জানান, “খেপুপাড়া সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় বিএস ১২ নম্বর খতিয়ানের অধীন ২১.৭৬ একর জমির বৈধ মালিক এবং দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছে। ঘটনার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা করলেও কাফি ও তার পরিবার রাজি হয়নি। পরে আদালতে মামলা করেছি। আমরা স্কুলের সম্পদ রক্ষায় আদালতের নিকট ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”

তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুরুজ্জামান কাফি। তিনি বলেন, “উক্ত জমিটির মূল ওয়ারিশগণ দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা করে সুপ্রিম কোর্ট থেকে স্বপক্ষে রায় পেয়েছেন। পরবর্তীতে তাঁদের নিকট থেকে আমি বাইনা সূত্রে জমিটি খরিদ করি এবং মালিকপক্ষ আমাকে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পর সেখানে চলাচলের রাস্তা তৈরি করি। প্রধান শিক্ষক রহিম স্যারের সাথে আমার কোনো দেখাই হয়নি। আমার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা। নিরপেক্ষ তদন্ত হলেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে।”

কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো: ফেরদৌস মিয়া মামলা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বিজ্ঞ আদালত ঘটনাটির সরেজমিন তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামকে নির্দেশ দিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *