স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুষ্টিয়া শহরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী পরিত্যক্তা এক তরুণীকে (২০) বহুতল ভবনের ছাত্রাবাসে চার দিন আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে রাফিউজ্জামান রবিন (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) ওই ভুক্তভোগী তরুণী কৌশলে ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে চিৎকার করলে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত রবিনকে গ্রেফতার করে।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার লক্ষ্মীখোলা গ্রামের বাসিন্দা রাফিউজ্জামান রবিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে ভুক্তভোগী তরুণীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। পরবর্তীতে বিয়ের কথা বলে তরুণীকে কুষ্টিয়া শহরের একটি বহুতল ভবনের নিচতলার ছাত্রাবাসে নিয়ে আসে। সেখানে গত ৪ দিন ধরে তরুণীকে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন ও পাশবিক অত্যাচার চালায় রবিন ও তার সঙ্গীরা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্যাতন চলাকালে তাঁর পরিচয় সম্পূর্ণ মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পুড়িয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। অবশেষে সোমবার সুযোগ বুঝে মেস থেকে পালিয়ে রাস্তায় এসে সাহায্য চেয়ে কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয় জনতা পুলিশকে খবর দেয়।
বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানান, পুলিশ কর্তৃক প্রেরিত উক্ত নারী ‘হিস্ট্রি অব সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট’ সংক্রান্ত আঘাত ও শারীরিক জটিলতা নিয়ে ভর্তি হলে তাঁকে হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে রেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও নিবিড় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ ঘটনায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং প্রধান আসামি রবিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মর্মান্তিক ও জঘন্য এই ঘটনার সাথে রবিনের অন্য কোনো সহযোগী জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তদন্ত পরিচালনা করছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত।

