সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের এক নারীর সাথে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জেলা জুড়ে ব্যাপক রাজনৈতিক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) রাত থেকে ইন্টারনেটে ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় জেলা জামায়াত প্রথমে বিষয়টিকে ‘প্রযুক্তিগত চক্রান্ত’ দাবি করলেও পরবর্তীতে ভিডিওর নারীকে সংসদ সদস্যের ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে বিবৃতি দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, একটি কক্ষের মধ্যে এক তরুণীর পাশে অবস্থান করছেন সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। সেখানে কখনো তাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে এবং কিছু দৃশ্যে ওই তরুণীর সাথে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।
ভিডিওটি জনসম্মুখে আসার পর প্রথম দিকে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের প্রচার বিভাগ এটি ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বা ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও বলে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি প্রথম সারির নিরপেক্ষ ‘ফ্যাক্টচেক’ ও তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তিগত অনুসন্ধান চালিয়ে নিশ্চিত করে যে, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি বা কোনো এডিটিংয়ের মাধ্যমে কারসাজি করা নয়; এটি সম্পূর্ণ প্রকৃত ভিডিও। যাচাইকরণ তথ্যে দেখা গেছে, সিসিটিভি ফুটেজে থাকা সময় (টাইমস্ট্যাম্প) অনুযায়ী ভিডিওটি মূলত ২০২৩ সালের ১০ জুলাই ধারণ করা হয়েছিল। তবে কক্ষটি কোথায় অবস্থিত, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনার বিষদে কথা বলতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে সামগ্রিক বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও গণমাধ্যম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা মাওলানা আজিজুর রহমান বিষয়টির নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “ভিডিওটি আমাদের নজরে আসার পর আমরা সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের সাথে কথা বলেছি। এমপি আমাদের নিশ্চিত করেছেন যে, ভিডিওতে দৃশ্যমান নারী তাঁর আইনগত ও ধর্মীয় বিধান মেনে নেওয়া দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সম্মতি নিয়েই এই বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে ২০২৩ সালের এই ব্যক্তিগত মুহূর্তের গোপন ভিডিওটি কীভাবে এবং কার মাধ্যমে প্রকাশ্যে এলো, তা আমরা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছি।”
বিয়ের সুনির্দিষ্ট তারিখ বা কাবিননামা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিয়ের নির্দিষ্ট দিনক্ষণ এমপি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে না পারলেও এটি বেশ কিছুদিন পূর্বেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দলকে অবহিত করেছেন। ছবি সংগৃহীত।


