নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সদর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত করার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে। আজ রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) দুপুর ১টার দিকে জেলা শহরের আলাদাতপুর এলাকায় অবস্থিত ‘কালেক্টরেট স্কুলে’ এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে।
রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত প্রধান শিক্ষক মো. উজির আলী (৩৪)-কে সহকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। তিনি লোহাগড়া উপজেলার শালবরাত গ্রামের রতন মোল্যার পুত্র। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত অফিস সহকারী রাকিব হোসেন অন্তর পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ ও বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, রবিবার দুপুরে বেশ কয়েকজন অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জন্য বিদ্যালয়ে যান। এ সময় অফিস সহকারী অন্তর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই বেতন নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং উপস্থিত অভিভাবকদের সাথে অত্যন্ত অশোভন ও রুক্ষ আচরণ করেন।
বিষয়টি জানতে পেরে প্রধান শিক্ষক উজির আলী নিজের কক্ষ থেকে বের হয়ে অফিস সহকারীর কাছে অভিভাবকদের সাথে এমন দুর্ব্যবহারের কারণ জানতে চান। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রধান শিক্ষক নিজের কক্ষে ফিরে যাওয়ার জন্য ঘুরে দাঁড়ালে, অফিস সহকারী অন্তর আচমকা ধারালো ছুরি দিয়ে তাঁর ওপর চড়াও হন এবং এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন। প্রধান শিক্ষকের চিৎকার শুনে অন্যান্য শিক্ষকরা ছুটে এলে অভিযুক্ত অন্তর দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
নড়াইল জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. অলোক কুমার বাগচী জানান, আহত প্রধান শিক্ষক উজির আলীর হাত, মুখমণ্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের গভীর ক্ষত রয়েছে। তাকে হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি রেখে নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই বর্বরোচিত হামলার বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু সংবাদমাধ্যমকে বলেন:”ঘটনাটি জানার পরপরই পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেছে। পাশাপাশি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন প্রধান শিক্ষকের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বক্তব্য রেকর্ড করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে মামলা রুজু করা হবে এবং হামলাকারী অফিস সহকারী অন্তরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে আমাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

