স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের চৌগাছা উপজেলার ফতেপুর গ্রামে কথিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও গ্রামবাসীদের প্রাত্যহিক চলাচলের একমাত্র রাস্তায় বাধা সৃষ্টির তীব্র ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব এম. এ. সালামের কাছে লিখিত স্মারকলিপি ও অভিযোগ পেশ করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) সকালে ফতেপুর গ্রামের সাধারণ বাসিন্দা, ভ্যান ও ইজিবাইক চালকরা সম্মিলিতভাবে চৌগাছা পৌর শহরের বিএনপি নেতার রাজনৈতিক কার্যালয়ে গিয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন। এ সময় তাঁরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই সংকটের সমাধান না হলে তাঁরা কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবেন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও স্মারকলিপি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ফতেপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় ক্ষুদ্র যানবাহন চালকদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত একমাত্র সড়কটিতে বেশ কিছুদিন ধরে কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে। বেড় গোবিন্দপুর বাওড়ের আলোচিত আতিয়ার হত্যা মামলার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য তথা নিহত আতিয়ারের ভাই রাশেদ ও তাঁর কয়েকজন সহযোগী মিলে এই বেআইনি কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন বলে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
সংক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, রাশেদ ও তাঁর পক্ষের লোকজন ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এবং হত্যা মামলার দোহাই দিয়ে ফতেপুর গ্রামের একমাত্র চলাচলের প্রধান রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষ বা ভ্যান ও ইজিবাইক চালকেরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গেলে তাঁদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে করে গ্রামের সাধারণ কর্মজীবী মানুষ ও স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বুধবার সকালে ফতেপুর গ্রামের ভ্যান ও ইজিবাইক চালকেরা দলবদ্ধভাবে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. সালামের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে তাঁদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। তাঁরা বলেন, “আমরা গরীব মানুষ, প্রতিদিন ভ্যান-ইজিবাইক চালিয়ে আমাদের সংসার চলে। কিন্তু রাশেদ ও তাঁর সঙ্গীরা আমাদের জীবন-জীবিকা বন্ধের পাঁয়তারা করছে। আমরা এই অন্যায় জবরদখল ও হুমকির প্রতিকার চাই।”
স্মারকলিপি গ্রহণ করে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম. এ. সালাম গ্রামবাসীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান এবং বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিশ্বাসী। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধ বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আমরা উভয় পক্ষের সাথে কথা বলে এবং স্থানীয় মুরব্বিদের নিয়ে খুব দ্রুত এই চলাচলের রাস্তার সমস্যাটি স্থায়ীভাবে সমাধান করার চেষ্টা করব।”
তবে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই স্মারকলিপি প্রদানের পরও যদি অতি দ্রুত রাস্তার প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করা না হয় এবং হুমকিদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে তাঁরা সড়ক অবরোধসহ আরও বৃহত্তর ও কঠোর কর্মসূচির মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করতে বাধ্য হবেন। ছবি সংগৃহীত।


