স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর বিমানবন্দরে যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে ও নিজেদের রুটি-রুজি রক্ষার্থে অবিলম্বে নিয়মিত ও স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় রেন্ট-এ-কার চালকেরা। আজ বুধবার (১৫ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর বিমানবন্দর টার্মিনাল এলাকায় একত্রিত হয়ে চালকেরা তাঁদের এই ন্যায্য দাবি তুলে ধরেন এবং গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের চরম অর্থনৈতিক সংকটের কথা তুলে ধরেন।
রেন্ট-এ-কার চালকদের দাবি, এই ঐতিহ্যবাহী বিমানবন্দরটির নিয়মিত যাত্রী পরিবহনের ওপর সরাসরি নির্ভর করেই তাঁদের শত শত চালকের ও সহকারীর সংসার চলে। কিন্তু গত বেশ কিছুদিন ধরে বিমানবন্দরের নিয়মিত ফ্লাইট সূচিতে চরম বিপর্যয় ও অনিয়মিত ফ্লাইট যাতায়াতের কারণে তাঁদের আয়ের উৎস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় বিমানবন্দরে অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত যাত্রী না পেয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে তাঁদের।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিমানবন্দর চত্বরে রেন্ট-এ-কার চালকেরা জমায়েত হন। এ সময় তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কিস্তিতে গাড়ি কিনে বা ভাড়ায় গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিনের সংসার খরচ ও সন্তানদের পড়াশোনার যোগান দেই। বিমানবন্দরটি সচল না থাকলে যাত্রীরা সড়ক বা রেলপথে চলে যাচ্ছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে আমাদের পকেটে। আমরা এখন চরম ধারদেনা ও ঋণগ্রস্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।”
তাঁরা আরও বলেন, কেবল নিজেদের জীবিকাই নয়, দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সম্মানিত বিমান যাত্রীদের যাতায়াতের দুর্ভোগ লাঘবের স্বার্থেও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের অত্যন্ত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ বিষয়ে উপস্থিত চালক ও রেন্ট-এ-কার মালিকেরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন প্রশাসন ও বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, অনতিবিলম্বে বিমানের শিডিউল ঠিক করে আগের মতো নিয়মিত ফ্লাইট সচল করা হোক। যদি দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে নিজেদের পরিবার বাঁচাতে তাঁরা পরবর্তীতে আরও কঠোর ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। ছবি সংগৃহীত।


