ভোট ফুরালেই উধাও নেতারা!

ভোট ফুরালেই উধাও নেতারা!

রফিক মন্ডল, নিজস্ব প্রতিবেদক, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে:

ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার তেলটুপি থেকে কুষ্টিয়া-যশোর মহাসড়কের আমতলা বাজার পর্যন্ত সংযোগকারী একমাত্র প্রধান পাকা সড়কটি এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিগত দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে কোনো প্রকার সংস্কার বা আধুনিক উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় পিচ ও খোয়া সম্পূর্ণ উঠে গিয়ে সড়কটি এখন কার্যত একটি ধুলোবালি ও কাদার মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় নির্ভরযোগ্য ও সরেজমিন সূত্র থেকে জানা গেছে, সড়কটির তেলটুপি অংশ থেকে শুরু করে নিজতোলা, কাচারিতোলা, শ্রীফলতোলা, সড়াবাড়িয়া ও বিন্নী গ্রামের ওপর দিয়ে ভাদড়া হয়ে আমতলা বাজার পর্যন্ত পুরো অংশই এখন বড় বড় খানাখন্দে ভরা। ঝিনাইদহ জেলা শহরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও বাণিজ্যিক স্থানে যাতায়াতের জন্য এটিই এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের একমাত্র মূল সড়ক। তবে বর্তমান কঙ্কালসার পরিস্থিতি দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই যে এটি একসময় পিচঢালা একটি পাকা রাস্তা ছিল।

এলাকাবাসীর চরম অভিযোগ, দীর্ঘ প্রায় দুই দশকেও সড়কটিতে কোনো ধরণের সংস্কারের হাত দেওয়া হয়নি। শ্রীফলতোলা গ্রামের বাসিন্দা ফারুক মন্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা এতটাই অবহেলিত যে, বিগত সরকারের দীর্ঘ শাসনামলেও আমাদের এই অঞ্চলে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। রাস্তাটি দেখলে মনে হয় যেন এক পরিত্যক্ত জনপদ।” একই গ্রামের রাজু আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিদের নানা প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। কিন্তু ভোট পার হওয়ার পর সেসব সংসদ সদস্য (এমপি) বা স্থানীয় উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধিদের আর কোনো দেখা মেলে না।

সড়কটির ইতিহাস টেনে বিন্নী গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা বলেন, “বিগত ১৯ বছরে এই রাস্তায় কোনো কাজ হয়নি। সর্বশেষ ২০০৬-২০০৭ সালের দিকে বিএনপির সাবেক এমপি মরহুম মশিউর রহমানের সময়ে এই অঞ্চলের রাস্তাগুলোর দৃশ্যমান উন্নয়ন হয়েছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। এখন যারা ক্ষমতায় আসে-যায়, তাদের ভাগ্য বদলায়, কিন্তু আমাদের সাধারণ মানুষের ভাগ্য আর পাল্টায় না।”

সরেজমিনে তদন্ত করে দেখা গেছে, খানাখন্দে ভরা এই সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় নানা দুর্ঘটনা। রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি মারাত্মক বিপাকে পড়ছেন জরুরি চিকিৎসা প্রত্যাশী ও মুমূর্ষু রোগীরা। স্থানীয়রা জানান, কোনো মানুষ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই রাস্তার ঝাঁকুনিতে অবস্থা আরও বেশি আশঙ্কাজনক হয়ে পড়ে। এমনকি সুস্থ মানুষও এই পথ দিয়ে যাতায়াত করলে অসুস্থ বোধ করেন।

দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ, অবহেলা ও দুর্ভোগ থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের ও সড়ক বিভাগের দ্রুত আভিযানিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের যৌক্তিক দাবি, কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে অনতিবিলম্বে তেলটুপি টু আমতলা বাজারের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি নতুন করে সংস্কার ও কার্পেটিং করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী করা হোক। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *