মো. মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় বহুল আলোচিত বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে স্থানীয় এক সিনিয়র সাংবাদিকের পুত্রকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে জখম করার ঘটনা ঘটেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান ও এজাহারনামীয় দুই আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আজ সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) ভোরে তাঁদের নিজ নিজ বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় এবং দুপুরের দিকে ঝিনাইদহ বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে তাঁদের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন— কালীগঞ্জ পৌর এলাকার চাচড়া গ্রামের বাসিন্দা মোক্তার আলী (৪০) ও একই গ্রামের হামিদুল ইসলাম (৩০)। এদের মধ্যে মোক্তার আলী এই মামলার ১ নম্বর প্রধান আসামি।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই রাতে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা দেখাকালীন সময়ে দুই পক্ষের উগ্র সমর্থকদের মধ্যে সামান্য কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা হয়। এরই একপর্যায়ে স্থানীয় সাংবাদিক জাকারিয়া হোসেনের তরুণ পুত্র মামুন (২২) এর ওপর ধারালো ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে একদল যুবক অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা মামুনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপালে তিনি শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করেন। এই নৃশংসতার ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার অত্যন্ত উপপরিদর্শক (এসআই) হাচান আলী অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, “মামলা রুজু হওয়ার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ সোমবার শেষ রাতে চাচড়া গ্রামে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মামলার প্রধান আসামি মোক্তার আলী ও হামিদুল ইসলামকে তাঁদের বাড়ি থেকে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার অন্য পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা সর্বাত্মকভাবে অব্যাহত রয়েছে।”
মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর বাবা সাংবাদিক জাকারিয়া হোসেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার ছেলে মামুন এখনও হাসপাতালের বিছানায় তীব্র যন্ত্রণায় ছটফট করছে। ফুটবল খেলা নিয়ে একটি অত্যন্ত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি সব আসামির দ্রুত গ্রেফতার এবং আদালতের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।”
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্পষ্ট বার্তায় বলেন, “সাংবাদিকপুত্র মামুনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারাত্মক জখমের ঘটনার বিবরণ পাওয়ার পরপরই পুলিশ তৎপর ছিল। মামলার এক নম্বর আসামিসহ প্রধান দুই হোতাকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং এই অপরাধের সাথে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের মুখোমুখি করতে পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান ও আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।” ছবি সংগৃহীত।

