জামায়াত আমিরের জালিয়াতি ফাঁস!

জামায়াত আমিরের জালিয়াতি ফাঁস!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের (এডিবি) বিশেষ বরাদ্দের বাইসাইকেল বিতরণে জালিয়াতি ও ভুয়া ছাত্র সাজিয়ে সুবিধা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। আলিয়া মাদ্রাসার ভুয়া ছাত্র দেখিয়ে নিজের নাতির (পুতা ছেলে) জন্য সরকারি সাইকেলটি বাগিয়ে নেওয়ার ঘটনাটি ফাঁস হওয়ার পর এলাকা জুড়ে তীব্র সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং বিতর্কের মুখে আজ বুধবার (১ জুলাই) সাইকেলটি ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন ওই প্রভাবশালী নেতা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কোটচাঁদপুর উপজেলায় এডিপির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বিশেষ বরাদ্দ থেকে গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণের জন্য মোট ২৪টি বাইসাইকেল অনুমোদন করা হয়। বিতরণের জন্য তৈরি মাস্টাররোলে ‘সাইমুন ইসলাম’ নামে এক কিশোরকে কোটচাঁদপুর আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু অনুসন্ধানে জানা যায়, সাইমুন ইসলাম প্রকৃতপক্ষে ওই মাদ্রাসার ছাত্রই নয়, বরং সে উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলামের নাতি (পুতার ঘরের ছেলে)। কোনো ছাত্র উপস্থিত না থাকলেও মাওলানা তাজুল ইসলাম নিজেই ছাত্রের পরিবর্তে মাস্টাররোলে ভুয়া স্বাক্ষর দিয়ে সরকারি বাইসাইকেলটি জোরপূর্বক বুঝে নেন এবং পরে তা নাতিকে উপহার দেন।

এদিকে, কোনো যোগ্য শিক্ষার্থীকে না দিয়ে অনৈতিক উপায়ে জামায়াত আমিরের এই সাইকেল হাতিয়ে নেওয়ার একটি ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কোটচাঁদপুরের সুধী সমাজ, সচেতন নাগরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র তোলপাড় ও নিন্দার ঝড় ওঠে। একজন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতার এমন অনৈতিক জালিয়াতি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা।

জালিয়াতির এই খবরটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমান বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেন এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। সংসদ সদস্যের কড়া নির্দেশনার পর আজ বহুল আলোচিত ও জালিয়াতিতে ভরপুর ওই বাইসাইকেলের বরাদ্দটি সম্পূর্ণ বাতিল করা হয়েছে।

কোটচাঁদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) দীপা রানী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয়ের নির্দেশনায় ওই বিতর্কিত বাইসাইকেলের বরাদ্দটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আজ সাইকেলটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে ফেরত দিয়েছেন। সরকারি বরাদ্দে যেকোনো ধরণের অনিয়ম ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।”

এলাকাবাসী জানান, তীব্র সমালোচনার মুখে সাইকেল ফেরত দিলেও একজন দায়িত্বশীল পদের মানুষের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে সরকারি প্রকল্পের মালামাল প্রকৃত গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাই পায়। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *