স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলায় প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিয়ের প্রলোভনে এক তরুণীকে (২০) বাঁশবাগানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে প্রধান আসামিসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গত রাতে গণধোলাইয়ের পর স্থানীয় জনতা একজন আসামিদের আটকে রেখে পুলিশে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় থানা পুলিশের একটি চৌকস দল শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান চালিয়ে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামিকে খাঁচায় পুরতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলো— শার্শা উপজেলার গিলাপোল গ্রামের মোঃ সাহেব আলীর ছেলে প্রধান অভিযুক্ত মোঃ আবুল কালাম অপু (২৫) এবং একই গ্রামের মোঃ সেকেন্দার বাদশা ওরফে কারেন্ট ব্যাপারীর ছেলে ও ধর্ষণের সহযোগী মোঃ সাব্বির (২৩)।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী মরিয়ম খাতুনকে (২০) দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাবসহ বিভিন্ন কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বখাটে আবুল কালাম অপু। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এরই জেরে গত ২৭ মার্চ ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে অপু ওই তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ফুসলিয়ে শার্শা থানাধীন উলাশী ইউনিয়নের গিলাপোল গ্রামের ‘বর্ণমালা বিদ্যাপীঠ’ স্কুলের পেছনে একটি বাঁশবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে অপু ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক (ধর্ষণ) স্থাপন করে। আর তার এই অপকর্মে বন্ধু মোঃ সাব্বির দূরে দাঁড়িয়ে পাহারা দেয়।
ধর্ষণের ঘটনার পর ভুক্তভোগী তরুণী লম্পট অপুকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে সে নানা রকম তালবাহানা ও সময়ক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে পুরো বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা করেন। কিন্তু সালিশের মুখেও অপু ওই তরুণীকে বিয়ে করতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানায়। এতে উপস্থিত উত্তেজিত জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে ধর্ষণের সহযোগী সাব্বির কে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখে। তবে মুল অভিযুক্ত অপু কৌশলে ওখান থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনরোষ থেকে সাব্বিরকে উদ্ধার করে আটক করে এবং ভুক্তভোগী ও তার পরিবারকে থানায় নিয়ে আসে।এর পরপরই মূল আসামিকে ধরতে মাঠে নামে পুলিশ। শার্শা থানার চৌকস সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) আশীষের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল বিকেলে এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর ও সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত প্রধান আসামি আবুল কালাম অপুকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এ ঘটনায় আজ ১ জুলাই বুধবার ভুক্তভোগীর মা মোছাঃ ছায়রা বেগম বাদী হয়ে শার্শা থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন (মামলা নং-০১, তারিখ: ০১/০৭/২০২৬ খ্রিঃ)। মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(১)/৩০ ধারায় রুজু করা হয়।
শার্শা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে আজ বুধবার (১ জুলাই) বিকেলেই যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে সোপর্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী তরুণীর ডাক্তারি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছে এবং মামলার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।


