চায়ের আড্ডায় ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ: কটূক্তিকারী গ্রেফতার

চায়ের আড্ডায় ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তির অভিযোগ: কটূক্তিকারী গ্রেফতার

মোঃ মাসুদ রানা,কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে চায়ের দোকানে বসে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে প্রশান্ত কুমার (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে থানা পুলিশ। আজ রোববার (২৮ জুন) দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের কলেজপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক প্রশান্ত কুমার কালীগঞ্জ পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের কলেজপাড়া এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ রোববার দুপুরের দিকে কলেজপাড়া এলাকার একটি স্থানীয় চায়ের দোকানে ইসলাম ও সনাতন ধর্মাবলম্বী বেশ কয়েকজন ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে ধর্মীয় বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান ও সামাজিক বিষয় নিয়ে খোশগল্প করছিলেন। চায়ের আড্ডায় আলোচনা চলাকালীন হঠাৎ করেই প্রশান্ত কুমার ইসলাম ধর্ম, ধর্মীয় অনুশাসন ও বিশ্বাস নিয়ে অত্যন্ত আপত্তিকর, কুৎসিত এবং উস্কানিমূলক মন্তব্য করেন। তার এমন অবমাননাকর বক্তব্যের পর সেখানে উপস্থিত মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত দিকে মোড় নিতে থাকলে স্থানীয় বাজারে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে অনন্য নজির স্থাপন করেন উপস্থিত অন্যান্য সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। প্রশান্ত কুমারের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও উস্কানিমূলক বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সনাতন সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সবাইকে শান্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানান। খবর পাওয়ার পরপরই কালীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শান্তিনগর ও কলেজপাড়ার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রশান্ত কুমারকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ঘটনার সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, “ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আমরা প্রশান্ত কুমার নামে একজনকে আমাদের হেফাজতে নিয়েছি। স্থানীয় সচেতন জনতা ও সনাতন সম্প্রদায়ের তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ধর্মীয় উস্কানি বা কটূক্তি করার এই বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে ও নিখুঁতভাবে তদন্ত করছি। আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অপরাধে সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *