যশোর বড়বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্ধর্ষ ছিনতাই!

যশোর বড়বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে দুর্ধর্ষ ছিনতাই!

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী বড় মাছ বাজারে প্রকাশ্য দিবালোকে এক মাছ ব্যবসায়ীর পথরোধ করে আড়তের নগদ ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং প্রায় ৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার এক দুর্ধর্ষ অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা চাঁদার টাকা না পেয়ে স্থানীয় এক চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও তার সহযোগীরা এই হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী ওই ব্যবসায়ীর নাম মো. জাহিদ হাসান শোভন (৩২)। তিনি শহরের পূর্ব বারান্দী মাঠপাড়া এলাকার মিরান গাজীর ছেলে এবং বড়বাজারের খ্যাতনামা ‘মেঘনা ফিশ’ নামক আড়তের ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আছেন।

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ ও বাজার সূত্রে জানা যায়, বড়বাজার এলাকার আলা (৩৭) নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ম্যানেজার জাহিদ হাসান শোভনের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিভিন্ন সময়ে তাকে বাজারে একা পেয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, গতকাল শনিবার (২৭ জুন) বেলা আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে জাহিদ হাসান বড় মাছ বাজারে বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আড়তের বকেয়া টাকা আদায় করছিলেন। টাকা আদায় শেষে ফেরার পথে ওত পেতে থাকা আলা এবং তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন সহযোগী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জাহিদের পথরোধ করে। তারা পুনরায় আগের দাবি করা চাঁদার ২ লাখ টাকা দিতে বলে। জাহিদ চাঁদা দিতে সাফ অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে জাহিদ মাটিতে পড়ে গেলে অভিযুক্তরা জোরপূর্বক তার প্যান্টের পকেটে থাকা আড়তের বকেয়া আদায়ের নগদ ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা এবং গলায় থাকা ১ ভরি ৩ আনা ওজনের (যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা) একটি স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।

এ সময় জাহিদের চিৎকারে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও আড়তের কর্মচারীরা ছুটে এলে অভিযুক্ত চাঁদাবাজরা প্রকাশ্যেই প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে জনাকীর্ণ বাজার ত্যাগ করে বীরদর্পে চলে যায়।

ভুক্তভোগী মো. জাহিদ হাসান শোভন জানান, “ঘটনার পর আড়তের মালিক ও বড়বাজার ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে আমি কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। বাজারে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ আলাসহ তার সহযোগীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাসুম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, “বড় মাছ বাজারে চাঁদা দাবি ও টাকা ছিনতাইয়ের একটি লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছিল। বর্তমানে যশোর সদর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের বিষয়টি নিখুঁতভাবে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা মিললে আসামিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *