বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় সরকারি ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে এক দাঙ্গাবাজ দালাল চক্রের দাবীকৃত ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় শিল্পী বেগম (৪৫) নামে এক অসহায় ও মধ্যবয়সী নারীকে ঘরে ঢুকে এলোপাতাড়ি মারধর, রক্তাক্ত জখম ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর ও বর্বরোচিত এই ঘটনাটি ঘটেছে কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া গ্রামে। এই ধৃষ্টতার প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে কলাপাড়া উপজেলা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন চরম দুর্ভোগে পড়া ওই নারী।
মামলায় উত্তর নিশানবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম (৩৫), মিজানুর রহমান চৌকিদার (৪৮) এবং তামিম (২২)-এর নাম সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্ত সকল আসামিরা পটুয়াখালী এল.এ শাখা’র চিহ্নিত ও পেশাদার দালাল হিসেবে পরিচিত।
মামলার বিবরণ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী শিল্পী বেগম উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের উত্তর নিশানবাড়িয়া আবাসন প্রকল্পে পুনর্বাসনের একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ পেয়ে সেখানে দীর্ঘ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। সম্প্রতি ওই আবাসন এলাকাটি মেগা প্রকল্পের জন্য সরকারিভাবে ভূমি অধিগ্রহণের আওতায় পড়লে শিল্পী বেগম আইন অনুযায়ী ২০% ক্ষতিপূরণের তালিকাভুক্ত হন।
অভিযুক্ত দালাল চক্রটি এই অর্থ প্রাপ্তির বিষয়টি জানতে পেরে অধিগ্রহণকৃত ক্ষতিপূরণের মোটা অঙ্কের টাকা পটুয়াখালী এল.এ শাখা থেকে উত্তোলন করে দেওয়ার নাম করে শিল্পী বেগমের কাছে ক্ষমতার দলিল বা ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ দাবি করে। কিন্তু শিল্পী বেগম তাদের এই অনৈতিক প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে দেন এবং নিজের এক বিশ্বস্ত লোকের সহায়তায় সম্পূর্ণ আইনি উপায়ে এলএ শাখা থেকে তাঁর প্রাপ্য টাকা উত্তোলন করেন। এতেই ওই দালাল চক্রটি শিল্পী বেগমের ওপর চরম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাঁর বাড়িতে এসে অন্যায়ভাবে ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে সাত দিনের সময় বেঁধে দিয়ে যায়। ওই সময়ের মধ্যে চাঁদা না দিলে তাঁকে খুন ও গুম করার হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে গত ২ জুন বিকেলে উল্লেখিত আসামিরা একত্রিত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ধারালো ও লাঠিসোটা অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শিল্পী বেগমের বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে। তারা পুনরায় আগের ধার্যকৃত ১ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে শিল্পী বেগমকে চাপ দিতে থাকে। এই দুর্ভোগী মধ্যবয়সী নারী দাবীকৃত অবৈধ চাঁদা দিতে পুনরায় অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি ও অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় শিল্পী বেগমের তীব্র ডাকচিৎকার ও আর্তনাদ শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা লাঠিসোটা নিয়ে ছুটে আসলে আসামিরা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ঙ্কর হুমকি দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অসহায় শিল্পী বেগম লোকলজ্জা ও প্রাণভয়ে প্রথমে চিকিৎসা নিয়ে পরবর্তীতে সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচারের আশায় কলাপাড়ার বিজ্ঞ আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আদালতে মামলা দায়ের করার পর আসামিরা আরও বেশি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত শিল্পী বেগম ও তাঁর পরিবারকে অবিরত হুমকি-ধমকি দিয়ে যাচ্ছে। দালালদের এমন লাগাতার হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে শংকিত পরিবারটি, কাটাতে হচ্ছে নির্ঘুম রাত। এলএ শাখার চিহ্নিত দালালদের এই চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে এবং অসহায় নারীটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। ছবি সংগৃহীত।


