স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর জেলা পুলিশের এক অনন্য, মানবিক ও দৃষ্টান্তমূলক উদ্যোগের খবর পাওয়া গেছে। নিজের একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম ইজিবাইকটি হারিয়ে চরম দিশেহারা ও পরিবার নিয়ে অনাহারে দিন কাটানো এক অসহায় চালকের পাশে দাঁড়িয়েছেন যশোর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম। সম্প্রতি চুরি যাওয়া ইজিবাইকের শোক ভুলে আবারও যেন পরিবারটি ঘুরে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে আজ পুলিশ সুপারের নিজস্ব অর্থায়নে ওই চালককে সম্পূর্ণ নতুন একটি ইজিবাইক কিনে দেওয়া হয়েছে। পুলিশের এমন মানবিক ও মহানুভব আচরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বইছে প্রশংসার জোয়ার।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, যশোর উপশহর ‘সি’ ব্লকের (বাসা নং-২৩৪) বাসিন্দা মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে ইজিবাইক চালক সাগর। অত্যন্ত দরিদ্র ও জরাজীর্ণ পরিবারের একমাত্র চালিকাশক্তি ছিলেন সাগর এবং তাঁর এই ইজিবাইকটি। প্রতিদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইজিবাইক চালিয়ে যে সামান্য আয় হতো, তা দিয়েই চলত তাঁর পুরো পরিবারের ভরণপোষণ। কিন্তু সম্প্রতি সাগরের ইজিবাইকটি আকস্মিকভাবে চুরি হয়ে যায়। সংসারের একমাত্র আয়ের উৎসটি হারিয়ে সাগর সম্পূর্ণ দিশেহারা ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একদিকে গাড়ি চুরির বেদনা, অন্যদিকে পরিবারের সদস্যদের মুখে দু’মুঠো অন্ন তুলে দেওয়ার দুশ্চিন্তায় পুরো পরিবারটির ওপর চরম অর্থনৈতিক অন্ধকার নেমে আসে।
অসহায় ইজিবাইক চালক সাগরের এই করুণ ও হৃদয়বিদারক বিষয়টি কোনো এক মাধ্যমে যশোর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম-এর নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সাগরের পরিবারের চরম দুরাবস্থার কথা অনুধাবন করেন এবং তাঁর নিজস্ব তহবিল থেকে একটি গাড়ি কিনে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আজ ২১ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ (২১/০৬/০২৬) তারিখে শেখহাটি বাবলাতলা ঢাকা রোডস্থ পাওয়ার হাউজের পাশে অবস্থিত ‘মাহিশা এন্টারপ্রাইজ থেকে সাগরের জন্য একটি নতুন ইজিবাইক গাড়ির ক্রয় করা হয়।
আজ উপশহর পুলিশ ক্যাম্প প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে সাগরকে এই নতুন গাড়িটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে উপস্থিত থেকে ইজিবাইকটি চালক সাগরের হাতে হস্তান্তর করেন উপশহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই অলোক কুমার দে পিপিএম। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ উৎসুক জনতা উপস্থিত ছিলেন।
নতুন ইজিবাইকটি হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন চালক সাগর। চোখে আনন্দের অশ্রু নিয়ে তিনি বলেন, “গাড়িটা চুরি হওয়ার পর আমি ভেবেছিলাম আমার সংসার বুঝি আর বাঁচবে না, না খেয়ে মরতে হবে। এসপি স্যার আমার জীবনে ফের আলো এনে দিলেন। আমি ও আমার পরিবার পুলিশ প্রশাসনের এই ঋণ কোনোদিন ভুলব না।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাধারণত পুলিশ অপরাধী ধরে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করে, কিন্তু একজন গরিব মানুষের কষ্ট দেখে নিজের পকেট থেকে টাকা দিয়ে গাড়ি কিনে দেওয়ার মতো মানবিক ঘটনা সত্যিই বিরল। এসপি সৈয়দ রফিকুল ইসলাম পিপিএম-এর এই মহানুভবতা প্রমাণ করে যে ‘পুলিশই জনগণের আসল বন্ধু’। ছবি সংগৃহীত।


