রফিক মন্ডল, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) থেকে:
ঝিনাইদহ জেলাকে সম্পূর্ণ শান্ত, নিরাপদ, মাদকমুক্ত ও সামাজিক অপরাধমুক্ত একটি আদর্শ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার সুদৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান। বিশেষ করে তরুণ সমাজ ধ্বংসের মূল কারণ ‘মাদক’ নির্মূল এবং জেলাজুড়ে গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়া সামাজিক অস্থিরতা ও দলাদলি দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি।
আজ ২১ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ রোববার দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে ঝিনাইদহে কর্মরত প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত এক বিশেষ ও উন্মুক্ত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মতবিনিময়কালে নবাগত পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট ও কঠোর করে বলেন, “মাদকের ব্যাপারে কোনো ধরনের আপস বা অনুকম্পা দেখানোর সুযোগ নেই, সম্পূর্ণ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। ঝিনাইদহ জেলাকে মাদকের অভিশাপ থেকে মুক্ত করতে পুলিশ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য ও কার্যকরী সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
জেলার সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সামাজিক অস্থিরতা দমন প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ঝিনাইদহ অঞ্চলে শিশু নির্যাতন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ দলাদলি, রক্তক্ষয়ী সহিংসতা, সাইবার ক্রাইম, হালের মরণনেশা অনলাইন জুয়া এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমনে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা অত্যন্ত তৎপর ও সক্রিয় থাকবে। কোনো অপরাধীর রাজনৈতিক বা ভিন্ন কোনো সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। কোনো ব্যক্তির অপরাধকে পুলিশ কেবল ‘অপরাধ’ হিসেবেই দেখবে, একে ভিন্নভাবে বা লঘু করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। একটি নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের জেলাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, বস্তুনিষ্ঠ ও সত্য সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিক বন্ধুরা পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহায়তা করবেন। সাংবাদিকরা মূলত পুলিশের দর্পণ ও সহযোগী হিসেবে কাজ করে সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে সাংবাদিকরা নবাগত পুলিশ সুপারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে জেলার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তারা বলেন, জেলা ও উপজেলাগুলোতে নিয়মিত যেসব মাদক ব্যবসায়ী বা চোরাকারবারি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হচ্ছেন, তারা মূলত এই ব্যবসার ‘চুনোপুঁটি’ বা খুচরা বিক্রেতা। মূলত সারা জেলাতেই এখন মাদকের ভয়ংকর নেটওয়ার্ক ও সিন্ডিকেট ছড়িয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা সরকার পরিবর্তন হলে মাঠপর্যায়ে মাদকের গডফাদার ও সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণও পরিবর্তন হয়। তাই মূল ডিলার, মূল হোতা এবং নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের যদি গোড়া থেকে সমূলে উপড়ে ফেলা বা আটক করা না যায়, তবে এই মাদকবিরোধী সাধারণ অভিযান একসময় ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে। চুনোপুঁটিদের পাশাপাশি মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে তারা এসপি’র প্রতি জোরালো পরামর্শ দেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, সাবেক সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার জেলা সংবাদদাতা আসিফ কাজল, দৈনিক নবচিত্র পত্রিকার প্রধান সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, সম্পাদক অ্যাডভোকেট আলাউদ্দীন আজাদ, এটিএন বাংলার নিজাম জোয়ারদার বাবলু, যুগান্তরের মিজানুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান টিপু, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম মন্টু, শাহজাহান নবীন, ডেইলি স্টারের ওমর আলী সোহাগ এবং বাংলাদেশ বেতারের জেলা সংবাদদাতা আহসান কবিরসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে সুনির্দিষ্ট মতামত ও বক্তব্য পেশ করেন। নবাগত এসপি সাংবাদিকদের দেওয়া সকল তথ্য ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনার আশ্বাস দেন। ছবি সংগৃহীত।


