স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে নারী শিক্ষার প্রসার ও প্রাতিষ্ঠানিক অবকাঠামোগত উন্নয়নে আরও একটি বড় সাফল্যের পালক যুক্ত হলো। শহরের ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ‘যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’-এর নবনির্মিত আধুনিক ৬ তলা একাডেমিক ভবনের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ ২০ জুন ২০২৬ শনিবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই দৃষ্টিনন্দন ভবনের ফলক উন্মোচন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, এমপি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে “সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই বহুতল ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে। সরকারের এই বিশেষ মেগা প্রকল্পটি মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত নিখুঁত ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি), যশোর।
আজ সকালে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রীরা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এরপর তিনি ফিতা কেটে এবং নামফলকের লাল পর্দা উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে ৬ তলা একাডেমিক ভবনের দ্বার উদঘাটন করেন। ফলক উন্মোচন শেষে দেশ, জাতি এবং বিশেষ করে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ শিক্ষার কল্যাণে মহান আল্লাহর দরবারে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মাননীয় প্রতিমন্ত্রীসহ উপস্থিত অতিথিবৃন্দ অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যের সাথে হাত তুলে এই মোনাজাতে শরিক হন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার,জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সাবেরুল হক সাবু,জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন,প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি,শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর (ইইডি) যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং স্থানীয় জেলা ও পৌর পরিষদের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সর্বস্তরের শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে প্রতি মন্ত্রী গাছ রোপন করেন।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবিদ ও শিক্ষকেরা জানান, যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রীদের আসন সংখ্যার তুলনায় শ্রেণিকক্ষের তীব্র সংকট ছিল। এই আধুনিক ও সুপরিসর ৬ তলা একাডেমিক ভবনটি চালু হওয়ার ফলে বিদ্যালয়ের সেই দীর্ঘদিনের আবাসন ও শ্রেণিকক্ষ সংকট পুরোপুরি দূর হবে। নতুন ভবনে আধুনিক ল্যাবরেটরি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও উন্নত লাইব্রেরি সুবিধা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে, যা ছাত্রীদের মানসম্মত ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা গ্রহণে এক যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে। নতুন এই ভবন পেয়ে বিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে এক উৎসবমুখর ও আনন্দের জোয়ার বইছে। ছবি সংগৃহীত।
