ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি- প্রতিমন্ত্রী অমিত

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি- প্রতিমন্ত্রী অমিত

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

“আমাদের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিই হলো তৃণমূলের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা। আমরা দেশে যত বেশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারব, আমাদের জাতীয় অর্থনীতি তত বেশি মজবুত ও গতিশীল হবে। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বর্তমান নির্বাচিত সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য যথাযথ আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ ফান্ডের ব্যবস্থা করেছে। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই আমাদের মূল লক্ষ্য।” আজ ১৯ জুন ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ শুক্রবার যশোর শহরের ঐতিহাসিক মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে (টাউন হল মাঠ) বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক) যশোর জেলা কার্যালয় এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ আয়োজনে ‘বিসিক উদ্যোক্তা মেলা-২০২৬’—এর জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এসব কথা বলেন।

ফিতা কেটে এবং রঙিন বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে ১০ দিনব্যাপী এই মেলার আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। উদ্বোধনী পর্ব শেষে তিনি মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী যশোরের ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পের কথা স্মরণ করে বলেন, “যশোরের নারীদের কাজের অতীত ঐতিহ্য রয়েছে, বিশেষ করে এখানকার সুঁই-সূতা ও নকশিকাঁথা শিল্পের সুনাম দেশজুড়ে। তবে সময়ের বিবর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে মা-বোনেরা পুরোপুরি তাল মেলাতে না পারায় পূর্বের অবস্থান থেকে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। এখনও ঢাকার নামী বুটিক শপগুলো যশোর থেকে কাজ করিয়ে নিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছে, কিন্তু আমাদের স্থানীয় উদ্যোক্তারা সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছেন না। ৩০-৩৫ বছর আগের পুরনো ডিজাইন বাদ দিয়ে সমসাময়িক আধুনিক ডিজাইন, ভালো মানের কাপড় ও সুতা ব্যবহার করে এই শিল্পের গৌরব ফিরিয়ে আনতে হবে।”

বিসিক শিল্পনগরীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আমি যশোর বিসিকে গিয়ে সেখানকার নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ভাঙাচোরা রাস্তা ও নিরাপত্তার অভাব দেখেছি। প্রতি বছর অগ্নিকাণ্ডে এখানকার ব্যবসায়ীদের প্রচুর ক্ষতি হয়। তাই আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এখানে একটি ফায়ার ব্রিগেড সাবস্টেশন নির্মাণের। নির্বাচিত হওয়ার প্রথম সপ্তাহেই আমি উদ্যোগ নিয়েছি এবং বর্তমানে জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। খুব দ্রুতই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দিয়ে এর নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হবে। এছাড়া বিসিক এলাকার নিরাপত্তার জন্য আধুনিক সড়ক বাতি ও পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে।”

জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “বর্তমান সরকার নিরাপদ জ্বালানি নীতি গ্রহণ করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বৈশ্বিক সংকটের কারণে আমরা উপলব্ধি করেছি যে, জ্বালানি খাতকে নিরাপদ করতে এখাতে বৈচিত্র্য আনতে হবে। তাই সরকার রিনিউয়েবল এনার্জি বা নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষভাবে মনোনিবেশ করেছে এবং বর্তমান বাজেটে সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য শুল্কমুক্ত (করমুক্ত) সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। আমি বিসিকের উদ্যোক্তাদের যৌথভাবে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। এতে সরকারের সবটুকু নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অতীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ‘বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন’ প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সাথে কথা বলে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোরের পুলিশ সূপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সর্বিক) সুজন সরকার, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রেজা দুলু, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান, সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, বিসিক যশোরের উপ-মহাব্যবস্থাপক এম এনাম আহমেদ, যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণ সম্পাদক এ জেড এম সালেক, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন এবং নাসিব যশোরের সভাপতি সাকির আলীসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, এবারের ১০ দিনব্যাপী বিসিক উদ্যোক্তা মেলায় হস্তশিল্প, কুটির শিল্প, চামড়াজাত পণ্য ও বুটিকসসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরির মোট ৬০টি স্টল অংশ নিয়েছে। মেলাটি প্রতিদিন সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং প্রতি সন্ধ্যায় মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীদের জন্য মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *