স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের বিতর্কিত ইনচার্জ (পরিদর্শক) খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে ১০-১২ বছরের এক অবুঝ শিশুকে একাধিকবার পাশবিক কায়দায় ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মতো অত্যন্ত জঘন্য ও সংবেদনশীল অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ পাওয়ার পরপরই জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) তাৎক্ষণিক নির্দেশে ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে নোয়াখালী পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। গতকাল শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) গভীর রাতে জেলা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের দাপ্তরিক আদেশে এই প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি ও অসহায় পরিবারের লিখিত অভিযোগের বিবরণ থেকে জানা গেছে, নির্যাতিত ওই শিশুটির মা এবং আপন ভাই দীর্ঘদিন ধরে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সরকারি মেসে রান্নার বাবুর্চি হিসেবে কাজ করে আসছিলেন। মেসের সেই পারিবারিক ও জীবিকার সুত্র ধরেই মায়ের সাথে মাঝে মাঝে ওই ১০-১২ বছরের শিশুটিরও তদন্ত কেন্দ্র প্রাঙ্গণে নিয়মিত যাতায়াত ছিল।
অভিযোগে অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পুলিশ পরিদর্শক খোরশেদ আলম ওই অবুঝ শিশুটিকে একা পেয়ে বিভিন্ন সময় ফুসলিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত শয়নকক্ষে বা বাসায় ডেকে নিতেন। পরবর্তীতে সেখানে শিশুটিকে প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জোরপূর্বক একাধিকবার পাশবিক কায়দাল ধর্ষণ করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগীর মা লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন।
নির্যাতিত পরিবারটি আরও বিস্ফোরক অভিযোগ এনে বলেছে, এই পৈশাশিক অপকর্মের পর ঘটনাগুলো যাতে কোনো অবস্থাতেই বাড়ির লোকজন কিংবা বাইরের কাউকে না জানানো হয়, সেজন্য অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা খোরশেদ আলম শিশুটিকে প্রতিনিয়ত কঠোর ভাষায় হুমকি-ধমকি দিতেন। পাশাপাশি ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সময় শিশুটিকে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়ার প্রলোভনও দেখানো হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষমতার দাপট এবং দরিদ্র পরিবারের নিরাপত্তার কথা ভেবে এতদিন মুখ খোলার সাহস পাননি তাঁরা। কিন্তু সম্প্রতি নির্যাতন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছালে বিষয়টি চারদিকে জানাজানি হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রতিবেশী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সরকারি পোশাকের আড়ালে একজন আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তার এমন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডে পুরো হাতিয়া এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার সর্বস্তরের সচেতন মহল এই ঘটনার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন। একইসঙ্গে দোষী প্রমাণিত হলে ওই পাষণ্ড পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ কঠোর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইজিপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কবির হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে স্পষ্ট জানান যে, এক অবুঝ শিশুকে যৌন নির্যাতনের সুনির্দিষ্ট ও সংবেদনশীল অভিযোগ পাওয়ার পরপরই জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে ওই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে ক্লোজড করা হয়েছে। বিষয়টি কড়া প্রশাসনিক নজরদারিতে রেখে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে ছায়া তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তদন্তে অপরাধের সত্যতা প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ও প্রচলিত আইনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ছবি সংগৃহীত।


