‘২০০ টাকা সঞ্চয়ে সরকার দেবে ৪০০ টাকা’

‘২০০ টাকা সঞ্চয়ে সরকার দেবে ৪০০ টাকা’

বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু, কলাপাড়া:

‘বাল্যবিবাহকে না বলি, সঞ্চয়ে ভবিষ্যৎ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দরিদ্র পরিবারের স্কুলগামী কিশোরীদের নিয়ে দিনব্যাপী এক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় বাল্যবিবাহ রোধের পাশাপাশি গ্রামীণ কিশোরীদের মাঝে সঞ্চয়ের গুরুত্ব ও পরিবেশ সুরক্ষার নানাবিধ দিক তুলে ধরা হয়।

প্রশিক্ষণে পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তারা কিশোরীদের সঞ্চয়মুখী করার লক্ষ্যে একটি বড় ঘোষণা দিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রতি ২০০ টাকা সঞ্চয়ের বিপরীতে সরকারের পক্ষ থেকে আরও ৪০০ টাকা আর্থিক প্রণোদনা যুক্ত করে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) পরিচালিত ‘সমন্বিত পল্লী কর্মসংস্থান সহায়তা প্রকল্প’ (ইরেসপো-২য় পর্যায়)-এর উদ্যোগে কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উক্ত বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত দরিদ্র পরিবারের ১০০ জন কিশোরী শিক্ষার্থী অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করে।

বিআরডিবি পটুয়াখালীর উপপরিচালক মুহাম্মদ হাসানুল হক মোল্লার সভাপতিত্বে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের উপসচিব স্বপন কুমার বসু। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন— পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব কুতুব উল আলম এবং কলাপাড়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মাহবুবা বেগম।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— কুয়াকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান, সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. রিয়াজুল ইসলাম, বিআরডিবি ইউসিসিএ লিমিটেড কলাপাড়ার চেয়ারম্যান ফোরকান হোসেন তালুকদার এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি জহিরুল ইসলাম মিরন। সমগ্র কর্মশালাটি সফলভাবে সঞ্চালনা করেন সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (ইরেসপো) মো. নেছার উদ্দিন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য বক্তারা বাল্যবিবাহের কুফল, কিশোরীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অব্যাহত রাখা, কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য, ছোটবেলা থেকেই সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও গুরুত্বারোপ করেন।

তাঁরা বলেন, “কিশোরীদের যদি আমরা সুশিক্ষিত ও অধিকার সচেতন করে গড়ে তুলতে পারি, তবে সমাজ থেকে বাল্যবিবাহসহ নারী নির্যাতনের মতো বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি ও সমস্যা ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাবে। আজকের সচেতন কিশোরীই আগামী দিনে একটি আদর্শ সমাজ বিনির্মাণের মূল কারিগর।”

প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী পর্বে যেসব কিশোরী সদস্যের বয়স ইতিমধ্যে ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও স্বাবলম্বিতার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আর্থিক প্রণোদনাসহ বিশেষ অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী সকল শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সামগ্রী প্রদান করা হয়। এছাড়া, শতভাগ কিশোরীর হৃদয়ে পরিবেশ সুরক্ষার টেকসই বার্তা পৌঁছে দিতে এবং সবুজায়নে উৎসাহিত করতে প্রত্যেকের মাঝে একটি করে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিআরডিবির কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ছবি-বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *