মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি:
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের মাত্র চার বছরের নিষ্পাপ শিশু তাবাচ্ছুমকে নির্মমভাবে ধর্ষণ ও পাশবিক উপায়ে হত্যার পর লাশ গুমের ঘটনার দ্রুত বিচার এবং প্রধান আসামির ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজপথ। আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) জুম্মার নামাজের পর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বারবাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বারবাজার ইউনিয়নের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের উদ্যোগে এক বিশাল ও স্বতঃস্ফূর্ত মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তীব্র প্রতিবাদী মানববন্ধনে বাদেডিহি ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামের নারী-পুরুষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ব্যানার, ফেস্টুন হাতে অংশ নেন।
বায়োজিত হোসেনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে ও প্রধান আসামির দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ফাঁসি দাবি করে বক্তব্য রাখেন— বিএনপি নেতা ও বারবাজার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, জামায়াত নেতা এম আরশেদ আলি পাতা এবং শফিকুল ইসলাম শিমুল। বক্তারা বলেন, চার মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এই জঘন্য অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ঢিমেতালে চলছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে নিহত শিশু তাবাচ্ছুমের পিতা অশ্রুসিক্ত চোখে ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি আমার একমাত্র অবুঝ মেয়ের নির্মম হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট বিচারের জন্য দেশের যেখানেই যাচ্ছি, সেখানেই ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে আমার কাছে টাকা চাওয়া হচ্ছে! আমি কোনো টাকা বা ঘুষ দিয়ে আমার মেয়ের রক্তের বিচার চাই না। আমি দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে এই নরপশুর সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।” তিনি আরও জানান, মেয়ের ন্যায়বিচারের আশায় তিনি সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারের অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কবিরের সাথে দেখা করেছিলেন, যিনি তাকে আদালতে গিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান তাকে ব্যক্তিগতভাবে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) বিকেল থেকে নিজ বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয় ৪ বছরের শিশু তাবাচ্ছুম। অনেক খোঁজাখুঁজির পরদিন সকালে উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামে অবস্থিত ‘আব্দুল জব্বার মাধ্যমিক বিদ্যালয়’-এর ভেতরের একটি সেপটিক ট্যাংকের ভেতর থেকে তাবাচ্ছুমের পাষণ্ডভাবে বস্তাবন্দি করে রাখা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
তদন্তে উঠে আসে, প্রতিবেশী লম্পট আবু তাহের শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিয়ে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করার পর গলা টিপে হত্যা করে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছিল। এই ঘটনার পর পুলিশ প্রধান আসামি আবু তাহেরকে গ্রেফতার করলেও দীর্ঘ চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও বিচার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পরিণতি না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হন। মানববন্ধনে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে যদি বিশেষ ট্রাইব্যুনালে এই নরপশুর ফাঁসির রায় কার্যকর করা না হয়, তবে পুরো ঝিনাইদহ জেলা অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ছবি সংগৃহীত।

