স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত দেশের অন্যতম সুপরিচিত বেসরকারি চিকিৎসালয় ‘আদ-দ্বীন হাসপাতাল’-এর লাইসেন্স সম্পূর্ণ বাতিল করেছে সরকার। চরম চিকিৎসা অবহেলা, গাফিলতি ও নানাবিধ গুরুতর অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে এই কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্প্রতি হাসপাতালটিতে একসাথে ছয় নবজাতকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে সরকারের পক্ষ থেকে এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলো।
আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে এই লাইসেন্স বাতিলের ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, মগবাজার আদ-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটির তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালের চরম গাফিলতি ও অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনার প্রমাণ মেলে। এর প্রেক্ষিতে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে কেন তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে না—তা জানতে চেয়ে একটি আনুষ্ঠানিক কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছিল।
তবে নির্ধারিত সময়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যে লিখিত জবাব দাখিল করেছে, তা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়ন কমিটির কাছে মোটেও সন্তোষজনক বা গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। ফলে জনস্বার্থ ও চিকিৎসাসেবার মান বজায় রাখতে হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
মহাপরিচালক স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, “যেহেতু হাসপাতালটির লাইসেন্স আইনগতভাবে বাতিল করা হয়েছে, তাই এই মুহূর্ত (১১ জুন বিকেল সাড়ে ৩টা) থেকে প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের সাধারণ বা জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রদান করতে পারবে না। ওপিডি (OPD) বা জরুরি বিভাগসহ হাসপাতালের কোনো শাখাতেই নতুন কোনো রোগী ভর্তি করার আর কোনো আইনগত অনুমতি থাকবে না।”
লাইসেন্স বাতিলের পর সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতালের সমস্ত কার্যক্রম তৎক্ষণাৎ সিলগালা করার কথা থাকলেও, বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন ও ভর্তি থাকা শত শত রোগীর জীবন এবং নিরাপত্তার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মহাপরিচালক জানান, এই মুহূর্তে হাসপাতালে যেসকল পুরোনো রোগী ভর্তি আছেন, তাদের চলমান চিকিৎসা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে শেষ করতে হবে। একই সাথে, যেসব রোগীর দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা প্রয়োজন, তাদের অতি দ্রুত ঢাকার অন্যান্য লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে নিরাপদ স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই স্থানান্তর প্রক্রিয়ার সম্পূর্ণ খরচ ও যাবতীয় দায়িত্ব আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে বা স্থানান্তরে অবহেলা করা হলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা দায়ের করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


