নদীর পাড়ে কিশোরীকে ধর্ষণ!

নদীর পাড়ে কিশোরীকে ধর্ষণ!

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

পিরোজপুর সদর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুক্তারকাঠি এলাকায় নদীর তীরে ভোরের আলো ফুটতেই বকুল ফুল কুড়াতে গিয়ে এক ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা কিশোরী পাশবিক ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অত্যন্ত জঘন্য ও লোহমর্ষক এক অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বলেশ্বর নদীর পাড় সংলগ্ন এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় স্থানীয় জনতার সহায়তায় পিরোজপুর সদর থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে আব্দুল গনি শিকদার (৬০) নামের এক বৃদ্ধকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ধৃত অভিযুক্ত আব্দুল গনি শিকদার মুক্তারকাঠি গ্রামেরই বাসিন্দা মৃত সেকেন্দার আলী শিকদারের ছেলে এবং সে পেশায় একজন সাধারণ দিনমজুর বলে জানা গেছে। ভোরের ফুল কুড়াতে গিয়ে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী এভাবে পাশবিক লালসার শিকার হওয়ার খবরটি প্রকাশ পাওয়ার পর পুরো জেলা জুড়ে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, ক্ষোভের আগুন এবং অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।

পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার সকাল বেলা যথানিয়মে ওই কিশোরী তাদের বাড়ির অদূরে বয়ে যাওয়া বলেশ্বর নদীর পাড়ে ঝরে পড়া তাজা বকুল ফুল কুড়াতে যায়। সেখানে আগে থেকেই সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওৎ পেতে থাকা লম্পট দিনমজুর আব্দুল গনি শিকদার নানাবিধ কৌশলের আশ্রয় নিয়ে এবং ফুঁসলিয়ে ওই কিশোরীকে নদীর পাড় থেকে তার নিজের একটি ফাঁকা ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। ঘরের ভেতর ঢোকানোর পরপরই দরজা বন্ধ করে দিয়ে সে অসহায় মেয়েটিকে প্রাণনাশের বিভিন্ন ভয়-ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক পৈশাচিক ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে কামনাসক্ত বৃদ্ধের কবল থেকে নিজেকে বাঁচাতে ওই কিশোরী ঘরের ভেতর থেকেই উচ্চস্বরে আর্তচিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করে। তাঁর তীব্র চিৎকার শুনতে পেয়ে আশেপাশের বাড়ির সাধারণ লোকজন ও পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করেন।

এ সময় ঘরের ভেতর আপত্তিকর অবস্থায় থাকা ধর্ষক আব্দুল গনি শিকদারকে স্থানীয় জনতা চারদিক থেকে অবরুদ্ধ করে হাতেনাতে আটকে রাখেন এবং পিরোজপুর সদর থানায় জরুরি খবর দেন। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই সদর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করার পাশাপাশি অবরুদ্ধ কামুক আব্দুল গনি শিকদারকে আটক করে সোজা থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

এই জঘন্য ঘটনার বিষয়ে চরম ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, তাদের বাসা বলেশ্বর নদীর একেবারে কাছাকাছি হওয়ায় তাঁর মেয়ে সকালে প্রায়ই সেখানে ফুল কুড়াতে যেত। কিন্তু গতকাল সকালে ওৎ পেতে থাকা ওই পাষণ্ড ব্যক্তি তাঁর সরল সোজা মেয়েটিকে একা পেয়ে নির্জন ফাঁকা ঘরে অবরুদ্ধ করে জোরপূর্বক এই জঘন্য অপরাধ করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর খবর পেয়ে যখন তিনি মেয়েকে বাঁচাতে ওই ঘরের সামনে যান, তখন উল্টো তাঁকেও বিভিন্ন ধরনের মারধর ও প্রাণনাশের কঠোর হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে উপায় না দেখে তিনি পুরো বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন এবং এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে নিজে বাদী হয়ে পিরোজপুর সদর থানায় আব্দুল গনি শিকদারকে একমাত্র আসামি করে একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তাঁর প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে। পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অপরাধের খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী মেয়েটিকে উদ্ধার করে এবং অপরাধীকে আটক করে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মায়ের লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত ধর্ষণ মামলা রুজু করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামি আব্দুল গনি শিকদারকে ওই মামলায় সম্পূর্ণ গ্রেফতার দেখিয়ে অত্যন্ত কড়া পুলিশি পাহারায় বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই পিরোজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া জোরদার রয়েছে। ফাইল ছবির সংগৃহীত। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *