স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর শহরে বিশ্বখ্যাত আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস ডিএইচএল (DHL)-এর নাম ও লোগো অবৈধভাবে ব্যবহার করে সাধারণ গ্রাহকদের সাথে প্রতারণার অভিযোগে মিকাইল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে যশোর শহরের ব্যস্ততম মোমিননগর মার্কেট এলাকায় এই প্রতারণার জালিয়াতি চক্রের সন্ধান মেলে। আটক মিকাইল ইসলাম যশোর শহরতলীর নতুনহাট এলাকার বাসিন্দা।
ডিএইচএল (DHL)-এর যশোর অঞ্চলের দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিশিয়াল এজেন্ট আবু হাসান ঘটনার বিবরণ দিয়ে গণমাধ্যমকে জানান, আটক মিকাইল ইসলাম একসময় যশোর সিভিল কোর্ট মোড়ে অবস্থিত তাঁর আসল ডিএইচএল এজেন্সির আউটলেটে কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানে চাকরি করার সুবাদে আন্তর্জাতিক পার্সেল বুকিং ও কুরিয়ার ব্যবসার খুঁটিনাটি সবকিছু তিনি রপ্ত করেন।
কিছুদিন আগে মিকাইল ওই প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর সম্পূর্ণ অবৈধ ও অনৈতিকভাবে তিনি গোপনে শহরের মোমিননগর মার্কেটে একটি দোকান ঘর ভাড়া নেন। সেখানে বহুজাতিক কোম্পানি ডিএইচএল (DHL)-এর সাইনবোর্ড ও লোগো টাঙিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদিত অফিশিয়াল এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বুকিং নিতে শুরু করেন।
ডিএইচএল-এর যশোর এজেন্ট আবু হাসান আরও জানান, মিকাইল ইসলাম ডিএইচএল-এর রেট ও রসিদ ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর মূল্যবান মালামাল ও কাগজপত্র সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে তিনি ডিএইচএল-এর মাধ্যমে তা না পাঠিয়ে কম খরচের অন্য একটি সাধারণ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে গোপনে বিদেশে পাঠিয়ে আসছিলেন। এতে গ্রাহকেরা যেমন চরম প্রতারিত হচ্ছিলেন, তেমনি আন্তর্জাতিক কুরিয়ার কোম্পানি ডিএইচএল-এর সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল।
গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ভুয়া এই আউটলেট ও সাইনবোর্ডের বিষয়টি আসল এজেন্ট আবু হাসানের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ডিএইচএল কোম্পানি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মিকাইল ইসলামকে ওই ভুয়া দোকান থেকেই হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
খবর পেয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুয়া সাইনবোর্ড ও সরঞ্জামাদিসহ মিকাইল ইসলামকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিসের নাম ব্যবহার করে প্রতারণা ও জালিয়াতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মিকাইলকে থানায় এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ডিএইচএল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত দণ্ডবিধি ও জালিয়াতির ধারায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ছবি সংগৃহীত।


