স্থানীয় বিরোধ দ্রুত ও স্বল্প খরচে নিষ্পত্তির বার্তা

স্থানীয় বিরোধ দ্রুত ও স্বল্প খরচে নিষ্পত্তির বার্তা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার ৪ নম্বর নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত, সহজ এবং স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ ২২ জুন ২০২৬ সোমবার নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে এই সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ অংশ নিয়ে গ্রাম আদালতের কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা লাভ করেন।

ক্যাম্পেইনে উপস্থিত বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত গ্রামীণ জনপদে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের আইনি জটিলতা নিরসনে একটি যুগান্তকারী ব্যবস্থা। দেশের প্রচলিত আদালতের দীর্ঘসূত্রতা, আইনজীবীদের অতিরিক্ত ফি এবং নানাবিধ আইনি জটিলতা এড়িয়ে গ্রামীণ মানুষ অনায়াসেই এই আদালতের মাধ্যমে শতভাগ ন্যায়বিচার পেতে পারেন। গ্রাম আদালতের পুরো কার্যক্রমকে আরও বেশি জনমুখী ও জনপ্রিয় করতে এবং এর সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এ ধরনের প্রচারণামূলক কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন ৪ নম্বর নওয়াপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির তুহিন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের জন্য একটি আস্থার জায়গা। অল্প সময়ে ও নামমাত্র খরচে ঘরের কাছেই বিরোধ নিষ্পত্তির এমন সুযোগ আর কোথাও নেই। তাই নিজেদের ছোটখাটো সমস্যা নিয়ে জেলা আদালতে না ছুটে গ্রাম আদালতের সেবা গ্রহণে জনগণকে আরও বেশি সচেতন ও আন্তরিক হতে হবে।”

এই বিশেষ ক্যাম্পেইনটি মূলত স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। কর্মসূচিপর্বে উপস্থিত গ্রামীণ জনগণের মাঝে তথ্যভিত্তিক বিভিন্ন লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের সেবা, মামলার কার্যপ্রণালি এবং এর সুফল সম্পর্কে বিস্তারিত প্রচারণা চালানো হয়। আয়োজক কমিটি আশা প্রকাশ করেন, এই সময়োপযোগী ক্যাম্পেইনের ফলে গ্রামীণ জনগণের মাঝে গ্রাম আদালত নিয়ে যাবতীয় বিভ্রান্তি দূর হবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে যেকোনো সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তিতে এই আদালতের ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *