স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একান্ত ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে এক তরুণীকে ব্ল্যাকমেইল, প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং লাগাতার চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তাঁর সাবেক প্রেমিক এবং এক সহযোগীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে ও নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী তরুণী আজ ২২ জুন ২০২৬ সোমবার যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী তরুণীর নাম সোনিয়া আক্তার দিয়া (২৪)। তিনি যশোরের অভয়নগর উপজেলার পোতপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে অভিযুক্ত সাবেক প্রেমিকের নাম শেখ এহসান আহমেদ ফয়সাল (২৫)। সে যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এই চক্রে ফয়সালের সহযোগী হিসেবে সাজু নামের আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, শেখ এহসান আহমেদ ফয়সাল বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সনিয়ার সাথে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। প্রেমের সুবাদে সে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও পরবর্তীতে বিয়ে করতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায় এবং সোনিয়া ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু করে। এই ধৃষ্টতার প্রতিকার চেয়ে সোনিয়া বাদী হয়ে ২০২৫ সালে ফয়সালের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
ভুক্তভোগী সোনিয়া দাবি, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলাটিতে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই ফয়সাল ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে আপস-মীমাংসার কথা বলে নির্জন স্থানে ডেকে নিয়ে সনিয়াকে বেধড়ক মারধর এবং জোরপূর্বক বিষপান করিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। এই নৃশংসতার ঘটনায়ও কোতোয়ালি মডেল থানায় ফয়সালের বিরুদ্ধে আরেকটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, পূর্বের মামলাগুলোর প্রতিশোধ নিতে পরবর্তীতে ফয়সাল সোনিয়া কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এই সাইবার অপরাধের ঘটনায় গত ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর অভয়নগর থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে আরও একটি মামলা দায়ের করা হয়। পর্নোগ্রাফি মামলায় পুলিশ ফয়সালকে গ্রেফতার করলেও পরবর্তীতে সে পুনরায় জামিনে মুক্ত হয়ে আসে। জেল থেকে বের হয়েই ফয়সাল এবং তার সহযোগী সাজু মিলে সোনিয়াকে সমাজচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে পুনরায় ব্ল্যাকমেইল ও মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করতে থাকে।
সর্বশেষ গত ৭ জুন রাতে সোনিয়া যশোর নিউমার্কেট এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ব্যক্তিগত কাজে গেলে সেখানে ফয়সাল ও তার সহযোগীরা ওত পেতে থেকে তাকে একা পেয়ে মারধর করে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক তিন হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া সম্মানহানির ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিকাশের মাধ্যমেও সনিয়ার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী তরুণী সোনিয়া আক্তার দিয়া অত্যন্ত ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “অভিযুক্তরা নিয়মিত আমার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ দাবি করছে এবং প্রতিনিয়ত আমাকে ও আমার পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। আমি বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং ঘর থেকে বের হতে পারছি না।” তিনি এই চিহ্নিত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন ব্ল্যাকমেইল ও চাঁদাবাজির লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, “তরুণীর অভিযোগটি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেছি। সাইবার অপরাধ ও চাঁদাবাজির এই বিষয়টি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ছবি সংগৃহীত।

