ঝিকরগাছা (যশোর) প্রতিনিধি:
যশোরের ঝিকরগাছা পৌরসভায় চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছরের এক শিশুকে কপোতাক্ষ নদে গোসল করার সময় জোরপূর্বক যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে সম্পর্কে দূর সম্পর্কের এক চাচার বিরুদ্ধে। তবে এই স্পর্শকাতর ঘটনায় অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার বদলে ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে সারারাত থানায় আটকে রেখে চরম মানসিক হয়রানি ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ উঠেছে ঝিকরগাছা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ঝিকরগাছা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলেবটতলার শান্তিনগর এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত লম্পটের নাম হবুল্লাহ (৬০)।
ভুক্তভোগী শিশুটির মা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার স্কুল বন্ধ থাকায় দুপুরে ওই শিশুটি বাড়ির পাশে কপোতাক্ষ নদে গোসল করতে যায়। এ সময় একা পেয়ে সম্পর্কে বড় চাচা হবুল্লাহ মেয়েটিকে জোরপূর্বক শ্যাম্পু মাখিয়ে দেওয়ার বাহানা করে এবং শরীরের বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থানে স্পর্শ করে তীব্র যৌন নিপীড়ন চালায়। শিশুটি বাড়িতে এসে কান্নাকাটি করে বিষয়টি জানালে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পর একটি প্রভাবশালী মহল বিশেষ সুবিধা নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। তবে সাধারণ মানুষের বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয় এবং সন্ধ্যার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে কামুক হবুল্লাহকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে আটকে রাখে। পরবর্তীতে খবর পেয়ে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে অভিযুক্তকে তাদের হেফাজতে নেয়।
তবে ঘটনার মূল নাটকীয়তা শুরু হয় এরপর। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার রাতে (আনুমানিক রাত আড়াইটায়) পুলিশ অভিযুক্ত হবুল্লাহর সাথে ভুক্তভোগী শিশু এবং তার মাকেও থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেওয়ার পরিবর্তে থানার একটি বদ্ধ কক্ষে পরের দিন শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হয়। সারারাত অবুঝ শিশুটি ও তার মাকে এক মুহূর্তের জন্য ঘুমাতে বা শুতে দেওয়া হয়নি, এমনকি এক ফোঁটা পানি বা কোনো খাবারও দেওয়া হয়নি। এমনিতেই পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটি প্রচণ্ড আতংকিত ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল, তার ওপর পুলিশের এমন অমানবিক আচরণে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তড়িঘড়ি করে একটি সাদা কাগজে ভুক্তভোগী মায়ের স্বাক্ষর নিয়ে পুলিশ তাদেরকে মামলা ছাড়াই বাড়ি চলে যেতে বাধ্য করে।
থানায় এনে ভুক্তভোগী পরিবারকে সারারাত অভুক্ত ও নির্ঘুম রাখার মতো এমন সংবেদনহীন ও অপেশাদার আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া অত্যন্ত ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন। তিনি সাংবাদিকদের সরাসরি বলেন, “কেন তাদেরকে সারারাত থানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে, এটা আমি আপনাকে বোঝাতে পারবোনা।”
এদিকে, ধর্ষণের চেষ্টা বা যৌন নিপীড়নের মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারকে থানায় আটকে রেখে একপ্রকার মানসিক নির্যাতন করার ঘটনায় ঝিকরগাছার সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের দাবি, পুলিশের এই রহস্যজনক আচরণ প্রমাণ করে তারা অপরাধীকে আড়াল করতে বা ঘটনাটি হালকা করতে ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষ অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্ত হবুল্লাহর সর্বোচ্চ শাস্তি এবং ওসিসহ দায়ী পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।
ফাইল ছবি সংগৃহীত।

